নির্বাচিত কলামসমসাময়িক

মহিলাদের চেহারা কী সতরের অন্তর্ভূক্ত নয়?

ইদানিংকালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা একেবারে তুঙ্গে। বিশেষ করে বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় বক্তা জনসমক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন যে, মহিলাদের চেহারা পর্দার অন্তর্ভূক্ত নয়। বিশেষ কারণে তারা চেহারা না ঢেকে বাহিরে যেতে পারবে। অনেকে এ ব্যাপারে কিছু কথা লেখার আবেদন করেছেন। ব্যস্ততার মাঝেও আজ এ সংক্রান্ত কিছু কথা আপনাদের সামনে পেশ করছি।

পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কুরআনের বিভিন্ন সূরায় আল্লাহ তাআলা পর্দা নিয়ে আলোচনা করেছেন। উম্মুল মুমিনিন এবং অন্যান্য সকল মহিলাকে পর্দা করার নির্দেশ কুরআনের একাধিক আয়াতে প্রদান করা হয়েছে। কুরআনের এক জায়গায় আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللهُ غَفُوراً رَحِيماً
অর্থ, হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা, ও মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। (সূরা আহযাব, আয়াত নং ৫৯)

পর্দা সংক্রান্ত আয়াত অনেক। সবগুলো উল্লেখ করলে লেখা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে। এজন্য আমি মূল আলোচনায় চলে যাচ্ছি। বাহিরে বের হওয়ার সময় মহিলাদের জন্য চেহারা ঢেকে রাখা আবশ্যক কিনা? পূর্বোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস রা. থেকে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন,
قوله (يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ) أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من فوق رءوسهن بالجلابيب ويبدين عينا واحدة.
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা মুমিন নারীদেরকে আদেশ করেছেন যখন তারা কোন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমন্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে। (তাফসিরে ইবনে জারির তাবারি, ২০/৩২৪, ফাতহুল বারি, ৮/৫৪)

ইবনে সিরীন রাহি. বলেন, আমি বিখ্যাত তাবেয়ি আবিদা রাহি. কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন,
عن ابن سيرين قال: سألت عبيدة عن قوله (قُلْ لأزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ) قال: فقال بثوبه، فغطى رأسه ووجهه، وأبرز ثوبه عن إحدى عينيه
অর্থাৎ এ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হল, কাপড় দ্বারা মাথা এবং চেহারা ঢেকে রাখবে। আর (চলাফেরার সুবিধার্তে) এক চোখ খোলা রাখবে। (তাফসিরে ইবনে জারির তাবারি, ২০/৩২৪)

কুরআনের আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعاً فَاسْأَلوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللهِ وَلا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَداً إِنَّ ذَلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللهِ عَظِيماً
অর্থ, তোমরা তাঁদের (নবী পত্নীদের জন্য) নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এই বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। তোমাদের কারো জন্য আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেওয়া সংগত নয়় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পত্মীদের বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনো বৈধ নয়। আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা ঘোরতর অপরাধ। (সূরা আহযাব, আয়াত ৫৩)

দেখুন, চেহারা যদি পর্দার অন্তর্ভূক্ত না হত, তাহলে আড়াল থেকে আল্লাহ চাওয়ার নির্দেশ দিলেন কেন? সামনে আসলেই হতো। এ আয়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, চেহারা পর্দার অন্তর্ভূক্ত। চেহারা পর্দার অন্তর্ভূক্ত, এর পক্ষে ভুরি ভুরি হাদিস রয়েছে। এখানে মাত্র একটি হাদিস উল্লেখ করছি।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, ‘আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম তখন আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের সামনাসামনি চলে আসত তখন আমাদের সকলেই চেহারার ওপর ওড়না টেনে দিতাম। তারা চলে গেলে আবার তা সরিয়ে নিতাম। (মুসনাদে আহমাদ ৬/৩০)

আসমা বিনতে আবু বকর রা. বর্ণনা করেন,
্রكُنَّا نُغَطِّيَ وُجُوهَنَا مِنَ الرِّجَالِ، وَكُنَّا نَتَمَشَّطُ قَبْلَ ذَلِكَ فِي الْإِحْرَامِগ্ধ
অর্থাৎ, আমরা পরপুরুষদের সামনে মুখমÐল আবৃত করে রাখতাম। (আল মুসতাদরাক, হাদিস নং ১৬৬৮)
এ হাদিস বর্ণনা করার পর হাকিম নিশাপুরি রাহি. বলেন,
هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ، وَلَمْ يُخَرِّجَاهُ
অর্থাৎ হাদিসটি ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম রাহি. এর শর্তে উত্তীর্ণ।

এ ঘটনা থেকে আপনি কী বুঝলেন? সাহাবা যুগের সাধারণ মহিলাও পরপুরুষ থেকে নিজেদের চেহারা আবৃত করে রাখতেন।

ইফকের দীর্ঘ ঘটনার এক পর্যায়ে আয়েশা রা. বলেন,
فَبَيْنَا أَنَا جَالِسَةٌ فِي مَنْزِلِي، غَلَبَتْنِي عَيْنِي فَنِمْتُ، وَكَانَ صَفْوَانُ بْنُ المُعَطَّلِ السُّلَمِيُّ ثُمَّ الذَّكْوَانِيُّ مِنْ وَرَاءِ الجَيْشِ، فَأَصْبَحَ عِنْدَ مَنْزِلِي، فَرَأَى سَوَادَ إِنْسَانٍ نَائِمٍ فَعَرَفَنِي حِينَ رَآنِي، وَكَانَ رَآنِي قَبْلَ الحِجَابِ، فَاسْتَيْقَظْتُ بِاسْتِرْجَاعِهِ حِينَ عَرَفَنِي، فَخَمَّرْتُ وَجْهِي بِجِلْبَابِي، وَوَاللَّهِ مَا تَكَلَّمْنَا بِكَلِمَةٍ، وَلاَ سَمِعْتُ مِنْهُ كَلِمَةً غَيْرَ اسْتِرْجَاعِهِ،
অর্থ, আমি আমার স্থানে বসে ছিলাম একসময় আমার চোখ দুটি নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আসসুলামী ছিল বাহিনীর পিছনে আগমনকারী। সে যখন আমার অবস্থানস্থলের নিকট পৌঁছল তখন একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখতে পেল। এরপর সে আমার নিকট এলে আমাকে চিনে ফেলল। কারণ পর্দা বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। সে তখন ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন বলে ওঠে, যার দরুণ আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি এবং ওড়না দিয়ে নিজেকে আবৃত করে ফেলি। অপর বর্ণনায় রয়েছে, আমি উড়না দ্বারা আমার চেহারা ঢেকে ফেলি। (বুখারি, হাদিস নং ৪১৪১)

চেহারা পর্দার অন্তর্ভূক্ত না হলে আয়েশা রা. সে বিপদের মুহূর্তে কখনো উড়না দিয়ে চেহারা ঢেকে রাখতেন না। হাদিসের কিতাব থেকে চাইলে এ ধরণের শত শত দলিল পেশ করা যাবে। এরপরও আমাদের দেশে অতি উদার কিছ’ পণ্ডিত রয়েছেন, যারা বলেন, চেহারা সতরের অন্তর্ভূক্ত নয়। তারা এর পক্ষে আবু দাউদ শরিফের একটি বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেন। প্রথমে আমরা সে বর্ণনা দেখে নিই।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ، دَخَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهَا ثِيَابٌ رِقَاقٌ، فَأَعْرَضَ عَنْهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ: ্রيَا أَسْمَاءُ، إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَاগ্ধ وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: ্রهَذَا مُرْسَلٌ، خَالِدُ بْنُ دُرَيْكٍ لَمْ يُدْرِكْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا
অর্থাৎ আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবু বকর রা. কে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদ্দেশ্য করে বলেন, মহিলা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে গেলে তার হাত এবং মুখ ছাড়া অপর কোন অঙ্গ দেখা জায়েজ হবে না। (আবু দাউদ, হাদিস নং ৪১০৪)

প্রথমত, আমাদের দেখতে হবে এ হাদিস সহিহ কিনা? ইমাম আবু দাউদ রাহি. নিজেই এ হাদিসের উপর আপত্তি করেছেন। তিনি বলেন এ হাদিসটি মুরসাল। খালিদ বিন দুরাইক আয়েশা রা. কে পাননি। এছাড়া সনদের আরেকজন বর্ণনাকারী হলেন সাঈদ বিন বাশির। তার ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনায় যাচ্ছি না। শুধুমাত্র হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহি. এর বক্তব্য পেশ করছি। তিনি বলেন,
سعيد ابن بشير الأزدي مولاهم أبو عبد الرحمن أو أبو سلمة الشامي أصله من البصرة أو واسط ضعيف من الثامنة مات سنة ثمان أو تسع وستين
অর্থাৎ সে হল জয়িফ তথা দুর্বল বর্ণনাকারী। (তাকরিবুত তাহযিব, জীবনী নং ২২৭৬, শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা তাহকিককৃত)

এ হাদিসকে সহিহ বলার কোন সুযোগ নেই। কথা হল, সারাদিন সহিহ হাদিসের শ্লোগান দিয়ে নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য জয়িফ হাদিস দিয়ে দলিল দিয়ে দিলেন? এছাড়া আয়েশা রা. থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে, চেহারা সতরের অন্তর্ভূক্ত। এর বিপরিত এ দুর্বল বর্ণনা শাস্ত্রীয় মানদÐ গ্রহণ করার প্রশ্নই আসে না।

নামাজে এবং ইহরাম অবস্থায় চেহারা খুলে রাখার উপর কেয়াস করে সর্বাবস্থায় চেহারা খুলে রাখার ফতোয়া দেওয়া হাস্যকর ভুল। আল্লামা জাহিদ কাওসারি রাহি. ‘হিজাবুল মারআ’ নামে একটি রিসালা লিখেছেন। সেখানে তিনি এ ব্যাপারে মোটামোটি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সময় এবং সুযোগ না থাকার কারণে এখানে সে আলোচনা করতে পারলাম না। এবার আসুন, চার মাজহাবের ফতোয়া দেখি।

হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত ইমাম সারাখসি রাহি. বলেন,
لَا يُبَاحُ النَّظَرُ إلَى شَيْءٍ مِنْ بَدَنِهَا وَلِأَنَّ حُرْمَةَ النَّظَرِ لِخَوْفِ الْفِتْنَةِ وَعَامَّةُ مَحَاسِنِهَا فِي وَجْهِهَا فَخَوْفُ الْفِتْنَةِ فِي النَّظَرِ إلَى وَجْهِهَا أَكْثَرُ مِنْهُ إلَى سَائِرِ الْأَعْضَاءِ وَبِنَحْوِ هَذَا تَسْتَدِلُّ عَائِشَةُ – رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا – وَلَكِنَّهَا تَقُولُ: هِيَ لَا تَجِدُ بُدًّا مِنْ أَنْ تَمْشِيَ فِي الطَّرِيقِ فَلَا بُدَّ مِنْ أَنْ تَفْتَحَ عَيْنَهَا لِتُبْصِرَ الطَّرِيقَ فَيَجُوزَ لَهَا أَنْ تَكْشِفَ إحْدَى عَيْنَيْهَا لِهَذَا الضَّرُورَةِ وَالثَّابِتُ بِالضَّرُورَةِ لَا يَعْدُو مَوْضِعَ الضَّرُورَةِ وَلَكِنَّا نَأْخُذُ بِقَوْلِ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ – رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا
অর্থাৎ মহিলাদের শরীরের কোন অঙ্গের দিকে তাকানো জায়েজ নেই। কারণ, ফিতনার কারণে তাকানো হারামা করা হয়েছে। আমার মহিলাদের বেশিরভাগ সৌন্দর্য হল তার চেহারায়। সুতরাং চেহারার দিকে তাকানোর মাঝে ফিতনা বেশি রয়েছে। এরপর আয়েশা রা. এর মত উল্লেখ করে বলেন, তবে প্রয়োজনের কারণে রাস্তায় চলাচলের সময় মহিলা নিজের এক চোখ খুলে রাখতে পারবে। (আল মাবসুত, ১০/১৫৯, মাকতাবাতুর রশিদ)

আশা করি এ থেকে আপনারা ইমাম আবু হানিফা এবং হানাফি মাজহাব জানতে পারবেন। এবার আসি মালেকি মাজহাবে। মালেকি মাজহাবের বিখ্যাত ইমাম ইবনে খুয়াইজ মানদাদ বলেন,
إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا كَانَتْ جَمِيلَةً وَخِيفَ مِنْ وَجْهِهَا وَكَفَّيْهَا الْفِتْنَةُ فَعَلَيْهَا سَتْرُ ذَلِكَ، وَإِنْ كَانَتْ عَجُوزًا أَوْ مُقَبَّحَةً جَازَ أَنْ تَكْشِفَ وَجْهَهَا وَكَفَّيْهَا
অর্থাৎ মহিলা যদি সুন্দরি হয়, তার চেহারা এবং হাতের কারণে ফিতনায় পতিত হওয়ার আশংকা থাকে, তাহলে চেহারা এবং হাত ঢেকে রাখা ওয়াজিব। যদি সে পৌঢ়া হয়, অথবা কুচকুচে কালো হয়, তাহলে হাত এবং মুখ খুলে রাখার অবকাশ রয়েছে। (তাফসিরে কুরতুবি, ১২/২২৯)

শাফেয়ি মাজহাবের বিখ্যাত ইমাম আবু বকর বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল মুমিন তাকি উদ্দিন শাফেয়ি রাহি. বলেন,
فَحِينَئِذٍ يحرم نظر الرجل إِلَى عَورَة الْمَرْأَة الْأَجْنَبِيَّة مُطلقًا وَكَذَا يحرم إِلَى وَجههَا وكفيها إِن خَافَ فتْنَة فَإِن لم يخف فَفِيهِ خلاف الصَّحِيح التَّحْرِيم قَالَه الاصطخري وَأَبُو عَليّ الطَّبَرِيّ وَاخْتَارَهُ الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد وَبِه قطع الشَّيْخ أَبُو إِسْحَاق الشِّيرَازِيّ وَالرُّويَانِيّ وَوَجهه الإِمَام بِاتِّفَاق الْمُسلمين على منع النِّسَاء من الْخُرُوج حاسرات سافرات وَبِأَن النّظر مَظَنَّة الْفِتْنَة وَهُوَ محرك الشَّهْوَة فالأليق بمحاسن الشَّرْع سد الْبَاب والاعراض عَن تفاصيل الْأَحْوَال
অর্থাৎ ব্যাপকভাবে পুরুষের জন্য পরনারীর দিকে তাকানো হারাম। এমনভাবে তার চেহারা এবং হাতের তালুর দিকে তাকানোও হারাম, যদি ফিতনার আশংকা না থাকে। আর ফিতনার আশংকা না থাকলে বিশুদ্ধ মত হল, তাকানো হারাম। ইমাম ইসতাখরি এবং আবু আলি তাবারি এমন মত পোষণ করেছেন। শায়খ আবু মুহাম্মাদও এ মত গ্রহণ করেছেন। আবু ইসহাক সিরাজি এবং ইমাম রুয়ানি এ মত দৃঢ়তার সাথে গ্রহণ করেছেন। (কিফায়াতুল আখইয়ার, ২/২৩)

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রাহি. এর মত হল, ইমাম শাফেয়ি রাহি. এর মতো। ইমামদের মাঝে কেউ কেউ রয়েছেন, ফিতনার আশংকা না থাকলে চেহারা এবং মুখ খোলে রাখার অনুমতি দিয়েছেন। ইবনে হাযম জাহেরি রাহি. তাদের একজন। কিন্তু সরাসরি হাদিসের বিরোধী হওয়ার কারণে তাদের মতের কোন মূল্য নেই। এছাড়া বলা হয়েছে, ফিতনার আশংকা না থাকলে দেখার অনুমতি রয়েছে। বর্তমান যুগে যদি কেউ মনে করেন, আমার বউকে দেখলে কেউ ফিতনায় পড়ার আশংকা নেই, তাহলে তিনি যেন তার বউকে মুখ খোলে রাস্তায় বের করেন। কিন্তু দীনদার মুসলমানদের সামনে এ ধরণের ভ্রষ্টতাপূর্ণ ফতোয়া দিয়ে বিভ্রান্ত করবেন না।

লেখক: মুফতী রেজাউল করিম আবরার।

সম্পর্কিত পোস্ট

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button