সিয়ানাহ ট্রাস্ট

 

 

 

 

 

আল্লাহ তাআলার অগণিত শোকর যে আল্লাহ তাআলা আমাদের কিছু দ্বীনি ভাইয়ের মাঝে দ্বীনের ফিকির সৃষ্টি করে দিয়েছেন৷ যাদের মাধ্যমে সিলেটকে কেন্দ্র করে দ্বীনি কার্যক্রম ও তৎপরতা শুরু করার একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে৷ সেই প্রবাসী ভাইদের বিশেষ শুকরিয়া জানাতেই হয়, যাদের ঐকান্তিকতা ও মেহনতের বদৌলতে আজ আমরা এখানে জড়ো হতে পেরেছি৷ আসলে সিলেট আমাদের কেন্দ্র বা কর্মস্থল হলেও আমাদের কাজের পরিধি থাকবে বিশ্বজোড়া৷ আলমি চিন্তা ও উম্মাহকেন্দ্রিক কর্মতৎপরতা হবে আমাদের টার্গেট৷ সীমাবদ্ধতার মাঝেও মিশন টার্গেট বিস্তৃত হলে সমস্যা কী? প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে, পূর্ণতা আসবে তো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে৷ ইখলাসের সঙ্গে কাজ করলে আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন৷ আর কবুলিয়াতটাই হচ্ছে বড় বিষয়৷

লক্ষ্য ও পরিকল্পনা

উদ্দেশ্য: একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি।

ব্যাপক আকারে কাজ শুরুর আগে আপাতত কাজের রুপরেখা যেভাবে হতে পারে।

স্বাভাবিকভাবেই এখানে দুটি ভাগ থাকবে৷ উভয় ভাগের কাজও ভিন্ন ভিন্ন হবে৷

প্রথমভাগে থাকবেন, যারা অ্যাকাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন৷ অপর ভাগে থাকবেন, যারা এখনো অ্যাকাডেমিকভাবে শিক্ষানবিশ রয়েছেন৷

যারা অ্যাকাডেমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন, তাদের নিয়েই মূল কাজ পরিচালিত হবে৷ তার একটা সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ রূপরেখা নিম্নরূপ:

কর্মপরিকল্পনা

সিয়ানাহ ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্তে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান নিম্নলিখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।১. সকল বাতিল সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা এবং বিভিন্ন বাতিল ফিরকার মোকাবেলায় যোগ্য ও মেধাবীদের সমন্বয়ে তরুণ আলেম ও ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত যুবকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কাফেলা গড়ে তুলা।২. কোরআন সুন্নাহর আলোকে হিকমাহ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে উম্মাহ কে আল্লাহর দিকে আহবান করা। একজন দাঈ ইলাল্লাহ হিসেবে নিজেকে গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি অর্জন করা।

৩. সমাজের বিভিন্ন স্তরে দাওয়াতি মিশনে অংশগ্রহণকারী দাঈদের নিয়ে বৎসরে কমপক্ষে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা। খৃষ্টান মিশনারী অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে সেখানকার মুসলিমদের দাওয়াত দেয়ার কৌশল ও অভিজ্ঞতা অর্জন করা৷ অন্যান্য বাতিল ফিরকা মোকাবেলায়ও নিজেকে বলিষ্ঠ করে গড়ে তোলা৷ কিভাবে কলেজ-ভার্সিটি ও জেনারেল লাইনের ভাইদের মাঝে দাওয়াতি কাজ করতে হয়, কিভাবে বিভিন্ন মতাদর্শী কিংবা বিভিন্ন মতাবলম্বী ভাইদের দাওয়াত দিতে হয়, কিভাবে আহলে ইলমদের দাওয়াত দিতে হয়; ইত্যাদি বিষয়গুলো এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে৷

৪. ইসলাহে নফস তথা আত্মশোধনের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ। বাছাইকৃত দাঈদের নিয়ে লাগাতার কয়েকটি বিষয়ের উপর ইসলাহি প্রশিক্ষণ। যেমন, ইখলাসুন্নিয়্যাহ, দাওয়াতের গুরুত্ব ও ফযিলত, দাঈদের আওসাফ, বিভিন্ন বাধা ও তার মোকাবেলা, সবর, আমল বিনষ্টকারি বিষয়সমূহ (রিয়া তথা প্রদর্শনেচ্ছা, হিংসা, গালিগালাজ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ইত্যাদি)

৫. প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী চিন্তার অংশ হিসেবে গবেষণা ও পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার লক্ষে একটি স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলা।

৬. দাওয়াতি কাফেলায় অংশগ্রহণকারী জ্ঞানপিপাসু দাঈদের জন্য একটি সুবিশাল ও সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের ব্যবস্থা করা।

৭. ‘নিজেকে জানা এবং চেনা’র অংশ হিসেবে কমপক্ষে প্রতি দুই মাস অন্তর একটি ইহতেসাবী বৈঠকের আয়োজন করা।

৮. যেহেতু আমরা বর্তমানে মিডিয়া এবং প্রযুক্তির দিক দিয়ে চরম উৎকর্ষতার যুগে বাস করছি। এবং বিভিন্ন বাতিল ফিরকাগুলো এই সহজলভ্য মিডিয়াকে ব্যবহার করেই ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে কিংবা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তাই এদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ:

ক. প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম এবং দেশীয় ও বহির্বিশ্বের যাবতীয় তথ্যাদি জানা এবং জানানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা।

খ. বিভিন্ন বাতিল অসার বাক্যালাপ ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের জবাব এবং ইসলামের সুমহান বাণী সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা। সমসাময়িক বিষয়াবলীর উপর প্রতিসপ্তাহে অন্তত একটি ভিডিওক্লিপ আপলোড করা।

গ. গ্রামে গ্রামে নূরানি বৈকালিক মক্তব প্রতিষ্ঠা করা৷ যাতে করে স্কুলগামী বাচ্চারা দ্বীন শিখতে পারে৷ কুরআনের শিক্ষা অর্জন করতে পারে৷ নামায ও প্রায়োগিক মাসনুন দুআ শিখতে পারে৷

ঘ. প্রত্যেকেই যার যার এলাকাভিত্তিক কাজ বেগবান করবেন৷ যেমন গ্রাম বা পাড়াভিত্তিক ঘরোয়া প্রোগ্রামের আয়োজন করা৷ উঠান বৈঠকের আদলে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার আয়োজন করা ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব রাখা৷ যেখানে পূর্ণ নিরাপত্তা ও পর্দার সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নারীরাও শরীক হবেন৷

ঙ. একটি ফতোয়া বোর্ড গঠিত হবে৷ এর অধিনে উদ্ভূত ও অমীমাংসিত বিষয়াবলী নিয়ে তাত্ত্বিক ও তাহকীকী কাজ করা৷ সময়ে সময়ে নতুন নতুন বিষয় সম্বলিত গবেষণাপত্র প্রকাশ করা৷

চ. ইসলামিক কল সেন্টার: ফতোয়া বোর্ডের অধিনে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ দ্বীনি সেবা প্রদানের লক্ষে ফোনকলের মাধ্যমে দৈনন্দিন মুসলিম জীবনের উদ্ভূত সমস্যার তাৎক্ষণিক কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সমাধানের জন্যে কল সেন্টার খোলা৷

ছ. প্রত্যেক দাঈ নির্ধারিত বিষয়ের উপর একেকটি প্রবন্ধ রচনা করে জমা দেবেন।
যেমন বিশজন দাঈকে বিশটি বিষয় দেয়া হল। তারা কোরআন হাদিস ও অন্যান্য কিতাবাদি ঘাটাঘাটি করে নির্ভরযোগ্য রেফারেন্সসহ মাস শেষে এসে সেই প্রবন্ধ জমা দেবেন।
এভাবে প্রত্যেক মাসে কিংবা দু’ মাসে একটি প্রবন্ধ হলেও বছর শেষে এই প্রবন্ধ গুলো বিশাল ভাণ্ডারে পরিণত হবে৷ যা দিয়ে যেকোনো সেমিনারে শিট প্রদান কিংবা বিভিন্ন খতিবদের আলোচনার সহায়ক হবে৷ এগুলোকে আরো সমৃদ্ধ করে প্রকাশনারও উদ্যোগ রয়েছে৷ আবার আমাদের সদস্যদের যোগ্যতাও শানিত হবে৷

যারা এখনো নিয়মতান্ত্রিকভাবে তালিবুল ইলম রয়েছেন,
তাদের জন্যে কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা:
(১) নিজেকে যোগ্যতাসম্পন্ন ও বলিষ্ঠ করে গড়ে তোলার লক্ষে নিজেদের পড়াশোনা আগের চেয়ে আরো বেশি বেগবান করতে হবে৷ আগে হয়ত জীবনের টার্গেট সুস্পষ্ট ছিলো না৷ এখন টার্গেট পরিষ্কার হয়েছে- তুমি হবে দ্বীনের একজন দাঈ, দ্বীনের খাদেম৷ দলে দলে জাহান্নামের পথে চলা লোকদের মোড় ঘুরিয়ে জান্নাতের পথে নিয়ে চলা৷ যে যিম্মদারি রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করেছেন, সে যিম্মাদারি তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে৷ সুতরাং প্রস্তুতি কেমন হবে? নিজেই বিবেচনা করে নাও
(২) সচেতন ও বিচক্ষণ তা’লীমি মুরব্বির অধিনে ব্যাপক মুতালা’আ ও অধ্যবসায় এর মাধ্যমে নিজের ইলমি জগতকে বিস্তৃতকরণ।
(৩) চারিত্রিক হেফাজতের লক্ষে নিজের ইসলাহের প্রচেষ্টা চালানো৷ কারণ এই বয়সে চরিত্রের হেফাজত ব্যতিত ভবিষ্যতের মুখলিস দাঈ ও উম্মতের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না৷ বা হলেও পদে পদে বাধাগ্রস্ত হতে হয়
(৪) সর্বদা নিজেকে সুন্নতে নববীর পাবন্দ রাখা এবং নিজেকে একজন ভদ্র, মার্জিত এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বরূপে গড়ে তোলা।
(৫) নিজেকে গড়ার স্বার্থে জীবনকে নিয়মের ভেতর নিয়ে আসতে হবে৷ মাদরাসা খোলা অবস্থায় ফেইসবুক, ইন্টারনেট ইত্যাদি নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকতে হবে৷ প্রকৃত ইলম অর্জনে বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ অপরিহার্য বিষয়
(৬) অফ ডে-গুলোতে নেট ব্যবহার করলেও যে কারো সঙ্গে যে কোনো বিষয়ে তর্কাতর্কি, ট্রলবাজি, বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক লেখা, গালাগালি ও বিদ্বেষ ছড়ানো যাবে না৷ কাউকে এমন কাজে জড়িত পেলে সতর্কতাপূর্বক সদস্যপদও স্থগিত করা হতে পারে৷
(৭) বিভিন্ন বন্ধের সময় বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করলে, সেখানে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ৷
(৮) মুখে নয়, কাজে-কর্মে আকাবির-আসলাফের চিন্তা লালন, ধারণ ও বাস্তবায়নে নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষে তাদের জীবনালেখ্য ও রচনাসম্ভার ব্যাপকভাবে মুতালা’আ করা৷ দারসিয়াতের মুতালা’আ শেষ করে বা অবসর সময় সেই কাজে লাগানো৷
Top