দ্বীনের কাজে আত্মপ্রচার ও রিয়া: একটি দৃষ্টান্ত ও প্রতিক্রিয়া

0

মুফতি জিয়াউর রহমান

(আরবি শব্দ গায়রাত (غيرة)-এর অর্থ আত্মসম্মান বলুন বা জাত্যাভিমান বলুন পূর্ণ হক অনুযায়ী এর অর্থ আদায় করা কঠিন৷)

মানুষ হিসেবে সবার মধ্যেই কমবেশ গায়রত বা আত্মসম্মানবোধ থাকে৷ একজন মুমিনের মাঝে ‘দ্বীনি’ গায়রত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক বিষয়৷

এবার আসা যাক মূল কথায়৷ একজন আদর্শ স্ত্রীর সাজগোজ এবং সৌন্দর্য প্রদর্শন কেবলই স্বামীর জন্যে৷ এখন একজন দ্বীনি গায়রতবোধসম্পন্ন স্বামীর চোখের সামনে যদি তার প্রিয়তমা স্ত্রী সেজেগুজে ঘর থেকে বের হয়৷ উদ্দেশ্য থাকে পরপুরুষের সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে৷ পরপুরুষের লালসার শিকার হবে৷ তখন ওই স্বামীর জাত্যাভিমান এতটাই জাগ্রত হবে, রাগে-ক্ষোভে এতটাই উত্তেজিত হবে যে, স্ত্রীকে কঠোরভাবে শাসাবে৷ প্রথমবার মাফ করে দিয়ে পরবর্তীর জন্যে কঠোরভাবে সতর্ক করে দিবে৷ নিষেধ অমান্য করলে বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করবে না৷ এর নামই গায়রত৷ প্রকৃত মুমিনের মধ্যে এই গায়রত প্রবলভাবে পাওয়া যায়৷

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা সর্বোচ্চ গায়রতবোধসম্পন্ন৷ আল্লাহ তা’আলার গায়রত বা জাত্যাভিমান তুলনাহীন৷ আমরা আল্লাহ তা’আলার মাখলুক৷ শ্রেষ্ঠ মাখলুক৷ অতি আদরের মাখলুক৷ এ জন্যে আমাদেরকে সমস্ত মাখলুকের চাইতে সর্বোত্তম সৌন্দর্য প্রদান করেছেন৷ মাখলুকের কাছে খালিকের পরম চাওয়া এবং একান্ত দাবি হচ্ছে, আমরা কেবলই তাঁর জন্যে ইবাদত করব৷ ইবাদত কেবল তাঁকেই প্রদর্শন করব৷ অথচ এখন আমাদের ইবাদত লোকদেখানোর জন্যে হয়ে যাচ্ছে৷ রিয়াপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে আমাদের আ’মাল৷

নামায আদায় করছি তো- রিয়া, হজ্ব করছি তো- রিয়া, সাদাকা-খয়রাত করছি তো- রিয়া, দ্বীনের কোনো খিদমাত আঞ্জাম দিচ্ছি তো- রিয়া।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, একজন স্ত্রী যদি পরপুরুষের জন্যে নিজের সৌন্দর্য প্রদর্শনের কারণে স্বামীর গায়রতে লাগে, আত্মসম্মানে ধরে, রাগে-ক্ষোভে বিবাহবিচ্ছেদ পর্যন্ত ঘটার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে যায়; তাহলে ইবাদত যখন কেবলই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার জন্যে হওয়ার কথা, সেই ইবাদত যদি লোকদেখানোর জন্যে করি, আত্মপ্রচারের জন্যে করি৷ মানুষ বাহবা দিবে, মানুষের সন্তুষ্টি অর্জন হবে এমনটা ভেতরে কাজ করে, তাহলে সর্বোচ্চ গায়রতবোধসম্পন্ন মহান আল্লাহ কেমন নারাজ হবেন?

অবশ্যই সীমাহীন নারাজ হবেন৷ সেই ইবাদতের কোনো দাম আল্লাহর কাছে থাকবে না৷ এমনকী রিয়া তথা লোকদেখানোর গোনাহ ধারাবাহিকভাবে করার কারণে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক নষ্ট হবে৷ রহমত থেকে বঞ্চিত হতে হবে৷ আল্লাহ আমাদেরকে এই রোগ থেকে মুক্তি দান করুন৷

লেখক: মুফতি জিয়াউর রহমান

Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top