শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলে সম্বোধন, সতর্কতা কাম্য

0

মুফতি জিয়াউর রহমান

আমাদের জন্মদাতা বাবা-মাই হচ্ছেন আমাদের প্রকৃত ‘বাবা-মা’৷ সেই হিসেবে আমরা বাবাকে ‘আব্বা’ এবং মাকে ‘আম্মা’ বলে ডাকি৷ যদিও আমাদের বাচ্চারা আমাদেরকে বাবা এবং মা বলেই ডাকে৷

অপরদিকে শ্বশুর-শাশুড়ি হলেন আমাদের জীবনসঙ্গিনীর বাবা-মা৷ সেই হিসেবে আমরা স্বামী সম্প্রদায়ও স্ত্রীর বাবা-মাকে সম্মানার্থে ‘আব্বা-আম্মা’ বা ‘বাবা-মা’ বলে সম্বোধন করি৷ সম্মানার্থে এমন সম্বোধন জায়েয আছে৷ তবে জায়েয নয় তখন, যখন কেউ তার জন্মদাতা বাবা-মাকে ত্যাগ করে বা তাদের পিতৃত্ব এবং মাতৃত্বকে অস্বীকার করে অন্যকে বাবা-মা বলে ডাকবে৷ সেটাই হাদীসে নিষেধ এসেছে৷

যাক মূলে যে কথাটি বলার ছিলো সেটি হচ্ছে, আমরা শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বলে সম্বোধন করলেও আমাদের জন্মদাতা বাবা-মার সামনে যেন তাদেরকে এমন ডাকে সম্বোধন না করি৷ এতে করে তারা মনে মনে ভীষণ কষ্ট পান৷ যদিও প্রকাশ করেন না৷ বাস্তবতা হচ্ছে, আগে কোনো অংশী ছাড়াই তারা ‘বাবা-মা’ বা ‘আব্বা-আম্মা’ ডাকে সম্বোধিত হতেন৷ এখন যখন দেখেন তাদের সামনেই তাদের সন্তানের আরো দুজন মানুষ বাবা-মা সম্বোধনের অংশী হয়ে গেছেন, তখন তারা খুবই কষ্ট পান৷ যে কষ্ট তারা কইতেও পারেন না, সইতেও পারেন না৷

অপরদিকে স্ত্রীদের জন্যেও তাদের বাবা-মার সামনে শ্বশুর-শাশুড়িকে বাবা-মা বা আব্বা-আম্মা সম্বোধন না করা ভালো৷ আমাদের বিয়ের প্রথম দিনই উম্মে নাবহান আমাকে বলল: আপনার আব্বা-আম্মাকে আমি কি বলে ডাকব? আমি বললাম: আপনার (প্রথম প্রথম ‘আপনি’ বা ‘আপনার’ সর্বনামই ব্যবহার করতাম, ‘তুমি’ বা ‘তোমার’ এ রকম সম্বোধনে উন্নীত হই নি তখনও) বাবা-মাকে কি বলে ডাকেন? বলল ‘আব্বা’ ‘আম্মা’, আমি বললাম: তাহলে আমার আব্বা-আম্মাকে ‘আব্বু’ ‘আম্মু’ বলে ডাকবেন৷ এতে করে উভয় সম্বোধনের মধ্যে উচ্চারণগত পার্থক্য সৃষ্টি হয়ে যাবে৷

এরকম একটু সতর্কতা অবলম্বন করলে আমাদের বাবা-মা একটি নিরব মনোকষ্ট থেকে বেঁচে যান৷

 লেখকঃ মুফতি জিয়াউর রহমান

Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top