প্রচলিত জমি বন্ধক ও শরয়ী বিধি-বিধান (প্রথম পর্ব)

0
মুফতী ইমদাদুল হক
বর্তমান সমাজে জমি বন্ধকের প্রচলন রয়েছে।অহরহ জমি বন্ধক দেওয়া হচ্ছে বা নেওয়া হচ্ছে।কিন্তু জমি বন্ধকের ইসলামী নিয়মনীতি কি এ সম্পর্কে অনেকেরই কোনো ধারণা নেই। ইসলাম এ প্রচলিত পদ্ধতি সম্পর্কে কি বলে? আসুন কিছুটা সময় ব্যয় করে এ সম্পর্কে কিছু শরয়ী বিধি-বিধান জেনে নেই। যাতে ইহকাল ও পরকালের সঠিক রাস্তা অর্জন করতে সহায়ক হয়।
বন্ধকের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে যেয়ে আল্লামা হাসক্বফী রাহ বলেনঃ
(هُوَ) لُغَةً: حَبْسُ الشَّيْءِ.
وَشَرْعًا (حَبْسُ شَيْءٍ مَالِيٍّ) أَيْ جَعْلُهُ مَحْبُوسًا لِأَنَّ الْحَابِسَ هُوَ الْمُرْتَهِن(ُبِحَقٍّ يُمْكِنُ اسْتِيفَاؤُهُ)
তরজমাঃ
রেহেন(বন্ধক)এর শাব্দিক অর্থ কোনো কিছুকে বন্ধী করে রাখা।
পারিভাষায় রেহেন বলা হয়,কোনো জিনিষকে হক্ব বা কোনো প্রাপ্তধনের মুকাবেলায় বন্ধী করে রাখা। যাতে পরিবর্তীতে তা দিয়ে নিজ প্রাপ্যকে উসূল করা যায়। আদ-দুররুল মুখতার-৬/৪৭৭।
বন্ধক পদ্ধতি বৈধ তবে এক্ষেত্রে শরয়ী নীতিমালাকে মানতে হবে।বুঝতে হবে বন্ধক পদ্ধতি কি? এবং কি জন্য শরীয়ত বন্ধক পদ্ধতিকে বৈধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং শরীয়তের গন্ডীর ভিতর থেকে বন্ধক দিতে বা নিতে হবে। বন্ধক পদ্ধতির বৈধতা কোরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। যেমনঃ বন্ধক পদ্ধতির বৈধতা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেনঃ
ﻭَﺇِﻥكُنْتُمْْ ﻋَﻠَﻰ ﺳَﻔَﺮٍ ﻭَﻟَﻢْ ﺗَﺠِﺪُﻭﺍْ ﻛَﺎﺗِﺒًﺎ ﻓَﺮِﻫَﺎﻥٌ ﻣَّﻘْﺒُﻮﺿَﺔٌ ﻓَﺈِﻥْ ﺃَﻣِﻦَ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢ ﺑَﻌْﻀًﺎ ﻓَﻠْﻴُﺆَﺩِّ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺍﺅْﺗُﻤِﻦَ ﺃَﻣَﺎﻧَﺘَﻪُ ﻭَﻟْﻴَﺘَّﻖِ ﺍﻟﻠّﻪَ ﺭَﺑَّﻪُ ﻭَﻻَ ﺗَﻜْﺘُﻤُﻮﺍْ ﺍﻟﺸَّﻬَﺎﺩَﺓَ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﻜْﺘُﻤْﻬَﺎ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺁﺛِﻢٌ ﻗَﻠْﺒُﻪُ ﻭَﺍﻟﻠّﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﻋَﻠِﻴﻢٌ
তরজমাঃ
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও,তবে (ঋণের মুকাবেলায়)বন্ধকী বন্তু হস্তগত করে রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করা।তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত।সূরা বাক্বারা-২৮৩।
বন্ধকের বৈধতা সম্পর্কে এক হাদীসে এসেছে, নবীজী সাঃ নিজেও বন্ধক সুবিধা গ্রহণ করেছেন। যেমনঃ হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেনঃ
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﺍﺷﺘﺮﻯ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻳﻬﻮﺩﻱ ﻃﻌﺎﻣﺎ ﺑﻨﺴﻴﺌﺔ ﻓﺄﻋﻄﺎﻩ ﺩﺭﻋﺎ ﻟﻪ ﺭﻫﻨﺎ
ভাবার্থঃ
নবীজী সাঃ এক ইহুদির কাছ থেকে বাকীতে(নির্দিষ্ট সময়ে মূল্য পরিশোধের শর্তে) খাদ্য ক্রয় করেছেন,অতঃপর মূল্যর জামিন হিসাবে নিজ বর্মকে বন্ধক রেখেছেন। সহীহ মুসলিম-১৬০৩।
ইমাম নববী রাহ,উক্ত হাদীসের ব্যখ্যায় বলেনঃ
ﻭﻓﻴﻪ ﺟﻮﺍﺯ ﺍﻟﺮﻫﻦ ، ﻭﺟﻮﺍﺯ ﺭﻫﻦ ﺁﻟﺔ ﺍﻟﺤﺮﺏ ﻋﻨﺪ ﺃﻫﻞ ﺍﻟﺬﻣﺔ ، ﻭﺟﻮﺍﺯ ﺍﻟﺮﻫﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﻀﺮ ، ﻭﺑﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻭﻣﺎﻟﻚﻭﺃﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺃﺣﻤﺪ ﻭﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﻛﺎﻓﺔ ﺇﻻ ﻣﺠﺎﻫﺪﺍ ﻭﺩﺍﻭﺩ ﻓﻘﺎﻻ : ﻻ ﻳﺠﻮﺯ ﺇﻻ ﻓﻲ ﺍﻟﺴﻔﺮ
ভাবার্থঃ
উক্ত হাদীস দ্বারা বন্ধকের বৈধতা প্রমাণিত হলো।এমনকি কাফিরের কাছে যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখারও বৈধতা প্রমাণিত হলো। শুধু তাই নয় বরং মুক্বিম অবস্থায় ও বন্ধক রাখার বৈধতা প্রমাণিত হলো। এটাই ইমাম শাফেয়ী রাহ,ইমাম আবু হানিফা রাহ,ও ইমাম মালিক রাহ,এবং ইমাম আহমদ রাহ,এর মাযহাব ও অভিমত। আল-মিনহাজ,শরহে নববী-পৃঃ২১৮।
ইবনে আবেদীন শামী রাহ,বন্ধক পদ্ধতির বৈধতা সম্পর্কে বলেনঃ
[ كِتَابُ الرَّهْنِ]
ِ هُوَ مَشْرُوعٌ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى – {فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ} [ البقرة: 283] – وَبِمَا رُوِيَ «أَنَّهُ – عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ – اشْتَرَى مِنْ يَهُودِيٍّ طَعَامًا وَرَهَنَهُ بِهِ دِرْعَهُ» وَانْعَقَدَ عَلَيْهِ الْإِجْمَاعُ.
ভাবার্থঃ
বন্ধক পদ্ধতি কোরআনে কারীমের সূরা বাকারার ২৮৮নং আয়ত দ্বারা প্রমাণিত এবং নবীজী সাঃ কর্তৃক নিজ বর্মকে বন্ধক রাখা দ্বারাও প্রমাণিত হয়।সর্বোপরি বৈধতার উপর উলমায়ে কেরামদের ইজমা বা ঐক্যমত ও রয়েছে। রদ্দুল মুহতার-৬/৪৭৭।
সমাজে জমি বন্ধকের প্রচলিত কিছু পদ্ধতিঃ- এসমস্ত পদ্ধতিগুলোর হুকুম নিয়ে এখন আলোচনার প্রয়াস পাবো।
এক.
বন্ধকদাতা বন্ধক গ্রহীতার নিকট থেকে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা গ্রহণ করে আর বন্ধকগ্রহীতা জমি ভোগ করতে থাকে। যখন টাকা ফিরিয়ে দেয় তখন জমি হস্তান্তর করে।
দুই.
এটিও উপরের মতোই। তবে পার্থক্য হল, এক্ষেত্রে যখন টাকা ফিরিয়ে দেয় তখন বছর হিসাব করে বন্ধকগ্রহীতা কিছু টাকা কম নেয়। যেমন-কেউ এক কাঠা জমি বন্ধক নিল দশ হাজার টাকায় এবং সে দু বছর এ জমি ভোগ করে। দু বছর পর টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় পাঁচশ টাকা করে এক হাজার টাকা কম নেয়।
এখন প্রশ্ন জাগো আমাদের সমাজে প্রচলিত এ পদ্ধতিগুলো সহীহ কি না? উপরন্তু এ সম্পর্কে বিকল্প কোনো বৈধ পদ্ধতি রয়েছে কি না? এ নিয়ে আজকের নিম্নোক্ত কিছু পর্যালোচনা। ধৈর্য্য সহকারে পড়ার অনুরুধ রইলো।
ঋণদাতার জন্য বন্ধকি জমি ভোগ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। এটি মূলত ঋণ প্রদান করে বিনিময়ে সুদ গ্রহণেরই একটি প্রকার। সুতরাং উপরোল্লেখিত  প্রথম পদ্ধতিটি নাজায়েয হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। এ সম্পর্কে আল্লামা হাসক্বফী রাহ, বলেন।
(لَا انْتِفَاعَ بِهِ مُطْلَقًا) لَا بِاسْتِخْدَامٍ، وَلَا سُكْنَى وَلَا لُبْسٍ وَلَا إجَارَةٍ وَلَا إعَارَةٍ، سَوَاءٌ كَانَ مِنْ مُرْتَهِنٍ أَوْ رَاهِنٍ (إلَّا بِإِذْنِ) كُلٍّ لِلْآخَرِ، وَقِيلَ لَا يَحِلُّ لِلْمُرْتَهِنِ لِأَنَّهُ رِبًا، وَقِيلَ إنْ شَرَطَهُ كَانَ رِبًا وَإِلَّا لَا.
وَفِي الْأَشْبَاهِ وَالْجَوَاهِرِ: أَبَاحَ الرَّاهِنُ لِلْمُرْتَهِنِ أَكْلَ الثِّمَارِ أَوْ سُكْنَى الدَّارِ أَوْ لَبَنِ الشَّاةِ الْمَرْهُونَةِ فَأَكَلَهَالَمْ يَضْمَنْ وَلَهُ مَنْعُهُ، ثُمَّ أَفَادَ فِي الْأَشْبَاهِ أَنَّهُ يُكْرَهُ لِلْمُرْتَهِنِ الِانْتِفَاعُ بِذَلِكَ،
তরজমাঃ
বন্ধককৃত জমি দ্বারা কোনোভাবেই উপকৃত হওয়া যাবে না। না বন্ধককৃত জিনিষ থেকে কোনোপ্রকার খেদমত গ্রহণ করা যাবে, না তাকে বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, না পোষাক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, এমনকি উক্ত জিনিষ কাউকে ভাড়া বা আরিয়ত (ব্যবহার অনুমিত)হিসেবেও দেওয়া যাবে না। বন্ধকদাতা বা বন্ধকগ্রহীতা কেউ-ই তা পারবে না। তবে বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহীতা একে অপরের অনুমতি সাপেক্ষে উপরোক্ত বন্ধককৃত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারবে। কেউ কেউ বলেন বন্ধকগ্রহীতা কখনো উক্ত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারবে না।কেননা তা সুদ হয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ বলেন, বন্ধক চুক্তির সময় বন্ধককৃত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণের চুক্তি থাকলে সুদ হবে নতুবা সুদ হবে না।
আল-আশবাহ ওয়াল জাওয়াহির নামক কিতাবে বর্ণিত আছে,যদি বন্ধকদাতা বন্ধকগ্রহীতার জন্য গাছের ফলমূল বা তাতে বসবাস বা বকরী হলে তা থেকে দুধ খাওয়ার অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে বৈধ হবে।
এবং যদি সে উক্ত সুবিধাদি গ্রহণ করে ফেলে তাহলে সে যামিন হবে না।তবে বন্ধকগ্রহীতা তাকে বাধা প্রদানও করতে পারবে।
অতঃপর আশবাহ ওয়াল জাওয়াহির নামক কিতাবে উল্লেখ করা হয়, বন্ধকগ্রহীতার জন্য সাধারণত বন্ধককৃত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণ করা মাকরুহ।  আদ-দুররুল মুখতার ৬/৪৮২-৮৩।
আমীন ইবনে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ আবেদীন “শামী” রাহ উক্ত ইবারত সমূহের বিস্তারিত ব্যখার এক পর্যায়ে বলেনঃ
(قَوْلُهُ وَقِيلَ لَا يَحِلُّ لِلْمُرْتَهِنِ) قَالَ فِي الْمِنَحِ: وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْلَمَ السَّمَرْقَنْدِيِّ وَكَانَ مِنْ كِبَارِ عُلَمَاءِ سَمَرْقَنْدَ أَنَّهُ لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَنْتَفِعَ بِشَيْءٍ مِنْهُ بِوَجْهٍ مِنْ الْوُجُوهِ وَإِنْ أَذِنَ لَهُ الرَّاهِنُ، لِأَنَّهُ أَذِنَ لَهُ فِي الرِّبَا لِأَنَّهُ يَسْتَوْفِي دَيْنَهُ كَامِلًا فَتَبْقَى لَهُ الْمَنْفَعَةُ فَضْلًا فَيَكُونُ رِبًا، وَهَذَا أَمْرٌ عَظِيمٌ.
ভাবার্থঃ
মিনাহ কিতাবে বর্ণিত আছে, সমরক্বন্দ এলাকার একজন বিজ্ঞ  হানাফী আলেম-“আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আসলাম আস-সামারক্বান্দী” থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ বন্ধকগ্রহীতার জন্য বন্ধককৃত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণ করা কোনো ভাবেই বৈধ হবে না। যদিও বন্ধকদাতা তাতে অনুমতি প্রদান করুক না কেন?
কারণ প্রথমতঃ  বন্ধকদাতা সুদের মধ্যে অনুমতি প্রদান করছে।
দ্বিতীয়তঃ  বন্ধকগ্রহীতা পরবর্তীতে তার পূর্ণ ঋণ-ই সে উসূল করবে অথচ বন্ধককৃত জিনিষ থেকে সে ইতিপূর্বে ফায়দা গ্রহণ করেছে,সুতরাং ফায়দা গ্রহণটা অতিরিক্ত থেকে যাবে, আর এটাই সূদ,যা অনেক বড় গোনাহ। রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২;
তবে শর্তসাপেক্ষে বন্ধককৃত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণের কিছু মতামত ও তিনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি বন্ধককৃত জিনিষ থেকে ফায়দা গ্রহণের বৈধতা ও অবৈধতা সম্পর্কীয় উভয় মতামত পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্তমূলক আলোচনা করে বলেনঃ
ﻗَﺎﻝَ ﻃ: ﻗُﻠْﺖُ ﻭَاﻟْﻐَﺎﻟِﺐُ ﻣِﻦْ ﺃَﺣْﻮَاﻝِ اﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺇﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﻋِﻨْﺪَ اﻟﺪَّﻓْﻊِ اﻻِﻧْﺘِﻔَﺎﻉَ، ﻭَﻟَﻮْﻻَﻩُ ﻟَﻤَﺎ ﺃَﻋْﻄَﺎﻩُ اﻟﺪَّﺭَاﻫِﻢَ ﻭَﻫَﺬَا ﺑِﻤَﻨْﺰِﻟَﺔِ اﻟﺸَّﺮْﻁِ، ﻷَِﻥَّ اﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑَ ﻛَﺎﻟْﻤَﺸْﺮُﻭﻁِ ﻭَﻫُﻮَ ﻣِﻤَّﺎ ﻳُﻌَﻴِّﻦُ اﻟْﻤَﻨْﻊَ، ﻭَاَﻟﻠَّﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﺃَﻋْﻠَﻢُ اﻩـ.
ভাবার্থঃ-
আমার ধারণা-মানুষের বর্তমান অবস্থা এমন যে তারা ঋণ দিয়ে বন্ধককৃত জিনিষ গ্রহণের সময় উক্ত জিনিষ থেকে উপকার গ্রহণের-ই নিয়্যাত করে থাকে।এবং বাস্তবতাও এমন যে, উপকার না থাকলে সে ঋণ দেবে না। কেনই বা সে ঋণ দেবে?
সুতরাং ফায়দা গ্রহণটা শর্তের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যাবে।কেননা প্রসিদ্ধ প্রথা বা পদ্ধতি শর্তের মতই হয়ে থাকে। যে জন্য তথাকথিত বন্ধক পদ্ধতিক নিষিদ্ধ হবে। আল্লাহ-ই ভালো জানেন। রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২;
লেখকঃ মুফতী ইমদাদুল হক
Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top