প্রথম প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আমরা কতোটা সচেতন?

0

মাসুম আহমাদ

আমাদের জীবনব্যবস্থা নানারকম প্রতিশ্রুতির মাঝে আবদ্ধ। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী, সংসারিক জীবন, সমাজের বিভিন্নক্ষেত্রে চলা-ফেরা, উঠা-বসা, এককথায় জীবনের প্রতিটি মোড়ে মানুষ একে অপরের সাথে বিভিন্নভাবে প্রতিশ্রুত। আমাদের জীবন প্রারম্ভ থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত কোনো না কোনো প্রতিশ্রুতির সাথে সম্পৃক্ত। কিছু প্রতিশ্রুতি নিজস্ব প্রয়োজন আর কিছু ধর্ম, দেশ, সমাজের কারণে আমাদের করতে হয়।

প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা ধর্ম, সমাজ, আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জরুরী এবং পছন্দনীয়। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা চরম নিন্দনীয়। এর পরিণাম সম্বন্ধে আমাদের সবার ধারণা আছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার কারণে দেশ, সমাজ, পরিবেশ এমনকি মানুষের জীবন ব্যবস্থা পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যায়। তবুও মানুষ বিভিন্ন কারণে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।

মানবজীবনের প্রথম প্রতিশ্রুতি ছিলো বিশ্বজগতের মালিক আল্লাহ তায়ালা’র সাথে। জগত জগতস্রষ্টা, পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহ্‌ তায়ালা যখন সমগ্র মানবজাতিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?” সবাই উত্তরে বলেছিলো, “হ্যা, আপনিই আমাদের প্রতিপালক।” এই প্রতিশ্রুতির ঘটনা সূরা আরাফের ১৭২ নাম্বার আয়াতে বর্ণিত হয়েছে এভাবে যে “স্মরণ করো, তোমার প্রতিপালক আদমসন্তানের পৃষ্ঠদেশ হইতে তাহার বংশধরকে বাহির করেন এবং তাহাদের নিজেদের সম্বন্ধে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন এবং বলেন, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা সাক্ষী রহিলাম। ইহা এইজন্য যে, তোমরা যেন কিয়ামতের দিন না বলো, আমরা তো এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।” শরীয়তে মানবজাতির এই স্বীকৃতি ও প্রতিশ্রুতি “আহদে আলাসতু” হিসেবে পরিচিত।

মানবজীবনের প্রথম সেই প্রতিশ্রুতি অধিকাংশ মানুষ পরবর্তীতে রক্ষা করতে পারেনি। যারা এই জগতকে ত্যাগ চিরকালের জন্য পরকালে প্রস্থান করেছে, তাদের পক্ষে চাইলেও এখন আল্লাহ তায়ালা’র সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি রক্ষা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যারা এখনো বহাল তবীয়তে আছি, আমরা চাইলে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারি। এজন্য প্রয়োজন আল্লাহ তায়ালা’র ভয় ও রাসূল সা. প্রদর্শিত পথের অনুস্মরণ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন।

লেখকঃ মাসুম আহমাদ 

Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top