অমর প্রেমের সরল সূচনা (দ্বিতীয় পর্ব)

1

নবী ﷺ পরম প্রেমের অমর সুর। (দ্বিতীয় পর্ব)

লুকমান হাকিম

তিনি ছিলেন জন্মগত সভ্য এবং বংশগত ভদ্র। ইসলাম তাঁকে করে তুলেছে আরো উন্নত এবং আরো সম্ভ্রান্ত। কে এই তিনি? উত্তরের জন্য একটু অপেক্ষা না করলেও জানা হয়ে যাচ্ছে। রাসুলে আকরামকে আল্লাহপাক নুবুওয়াত দান করেছেন। রাসুল সা. তাঁর সর্বোচ্চ সাহস, সর্বশেষ শক্তি ব্যয় করে কুরায়েশের মূর্তিপূজা বা উপাস্যত্যাগের তাগিদ সবাইকে দিচ্ছেন। শুধু তা নয়, তাদের মস্তিষ্কের সুস্থতা ও উর্বরতা নিয়েও রীতিমতো প্রশ্ন তুলেছেন। নুবুওয়াতপ্রাপ্ত রাসুলকে নিয়ে কুরায়েশের লোকেরা এবার ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে। তারা রাসুলকে লজ্জা দিতে চায়। সমাজবিচ্ছিন্ন করতে চায়। নবী মুহাম্মদের নতুন এ দর্শনের সমালোচনায় তারা লাল হয়ে আছে। দিনে এবং রাতে। হাঁটতে এবং বসতে। এদিকে নিয়মিত এবং অনিয়মিত অপপ্রচারও করছে। হঠাৎ এক দিন তাদের এ সমালোচনার বর্ণ, শব্দ, বাক্য, সুর ও স্বর সব কিছু চলে আসে সিদ্দিকে আকবর আবু বকর রা. এর কানে। দাগ কাটতে শুরু করে তার হৃদয়ে। বাস্তবতা খুঁজতে আবু বকর রা. ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। নীরব থাকা তাঁর জন্য কঠিন থেকে মহা কঠিন হয়ে দাঁড়ালো। বিদ্যুৎগতিতে চলে গেলেন বন্ধু মুহাম্মদের পাশে। অনুসন্ধিৎসু ভাব নিয়ে সামনে বসলেন। বন্ধুসুলভ আচরণ আর স্বভাবসুলভ উচ্চারণে প্রশ্ন করলেন, ‘কুরায়েশের মাবুদত্যাগ ও তাদের বিবেকের সুস্থতার বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয়টি কি সত্য?’

উত্তরে রাসুল সা. বললেন, অবশ্যই। আমি আল্লাহর নবী ও রাসুল। তাঁর নির্দেশনা কানে কানে পৌঁছে দেয়া, হৃদয়ে হৃদয়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি আমাকে নশ্বর এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। আমি তোমাকেও সে সত্য আল¬াহর দিকে আহ্বান করছি। খোদার কসম! আমি যা বলছি, তাই সত্য।

হে আবু বকর! অদ্বিতীয় আল্লাহর দিকে আমি তোমাকে আহ্বান করছি। তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করো না। তা বিশ্বাস করা, না করাই হবে আমাদের সম্পর্কের নতুন মাপকাঠি। তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে আমাদের নতুন বন্ধুত্ব বা নতুন শত্রুতা।

যেই মাত্র শুনা সেই মাত্র কাজ। আবু বকর দেরি করলেন না। দাওয়াত গ্রহণ করলেন। কারণ, তিনি রাসুলের সততা জানতেন। সত্যতা বুঝতেন। উন্নত স্বভাব লক্ষ্য করতেন। মহান চরিত্র দেখতেন। আরো অনেক কিছু, যেগুলোর ধারক হয়ে কেহ অনুন্নত কথা বলতে পারে না। অসুন্দর কাজ করতে পারে না। যেগুলোর বাহক হয়ে কেহ মিথ্যা বলতে, আরেকটি মিথ্যার প্রতি দাওয়াত দিতে পারে না। তাহলে সেই তিনিই যখন আল্লাহর কথা বলছেন, তাঁর দাওয়াত দিচ্ছেন, তা অসত্য হবে কেনো? মিথ্যা হবে কেনো? সাড়া দিলেন। বন্ধুর চিন্তাচেতনার চর্চা, চর্যা করে শুরু করলেন নতুন যাত্রা। নবী সা. বলেন, আমি যাকেই দাওয়াত দিয়েছি, আবু বকর ছাড়া সবাই তা গ্রহণের ক্ষেত্রে দেরি বা দ্বিধা করেছেন। এর নাম রাসুলপ্রেম। ﷺ। (বেদায়া: ৩/২৬-২৭, সিরাতুন নববিয়্যাহ ২/২৫)

লেখকঃ লুকমান হাকিম

শিক্ষকঃ জামেয়া ইসলামিয়া ফরিদাবাদ সিলেট।

Share.

লেখক পরিচিতি

1 Comment

Leave A Reply

Top