হিজড়া সম্পর্কে ইসলামের বিধান

0

প্রশ্ন: বর্তমানে জেনানা বা হিজড়া উৎপাত অত্যধিক রকমের বেড়ে গেছে৷ এদের সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? আর আসলে এদের কেমন জীবন বেছে নেয়া উচিত? যেহেতু এরা শারীরীক ও মানসিকভাবে দুই রকম৷ তাহলে তাদের দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবন সম্পর্কে ইসলাম কী বলে?

জবাব:-
হিজড়া আল্লাহ তা’আলারই এক সৃষ্টিকর্ম।
হিজড়া বানানো আল্লাহ তা’আলার অসীম ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। এতে প্রমাণ হয় আল্লাহ তা’আলা কত রকম সৃষ্টি করতে পারেন।
এক হাদিসে হিজড়া জন্মের হেকমত উল্লেখপূর্বক আলোচনা এভাবে এসেছে যে-
হযরত ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমাকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো হিজরা কেন জন্ম নেয়? তদুত্তরে ইবনে আব্বাস বললেন: স্ত্রীর মাসিক চলা কালে যখন স্বামী তার সাথে সহবাস করে, তখন শয়তান ঐ যৌনমিলনে আগে আগে থেকে উক্ত ব্যক্তির সাথে যৌনকার্যে শরিক হয়,এবং শয়তানের বীর্য ঐ মহিলার গর্ভে গিয়ে পৌঁছে, যার ফলে হিজড়া সন্তান জন্ম গ্রহণ করে।
(ত্বরতুসী-কিতাবু তাহরীমিল ফাওয়াহিশ)
আজাইবুল মাখলুক্বাত-ইমাম সুয়ূতী রাহ।

হিজরাদের ব্যাপারে কোরআনে কারীম বা হাদীসে মারফুতে সরাসরি কোনো আলোচনা পাওয়া যায় না।
তবে হাদিস ও ফেকাহর কিতাবে তাদের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা রয়েছে,

হাদিস:-

عَنﺍﻟْﺤَﺴَﻦُ ﺑْﻦُ ﻛَﺜِﻴﺮٍ , ﺳَﻤِﻊَ ﺃَﺑَﺎﻩُ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺷَﻬِﺪْﺕُ ﻋَﻠِﻴًّﺎ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ، ﻓِﻲ ﺧُﻨْﺜَﻰ ، ﻗَﺎﻝَ ” : ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﺍ ﻣَﺴِﻴﻞَ ﺍﻟْﺒَﻮْﻝِ ، ﻓَﻮَﺭِّﺛُﻮﻩُ ﻣِﻨْﻪُ ” .
ভাবার্থ:-
হাসান ইবনে কাসির তার বাবাকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি হযরত আলী রা, কে দেখেছি তিনি খুনছা(হিজরা)দের বিষয়ে বলেন: তোমরা প্রস্রাব প্রবাহিত হওয়ার স্থান দেখে তাদেরকে (পুরুষ বা মহিলা রূপে সাব্যস্ত করো এবং)ওয়ারিছ বানাও।
(সুনানে বায়হাক্বী-১১৫৯১)
অন্যত্র বর্ণিত রয়েছে
ﻓﻘﺎﻝ ﻋﻠﻲ – ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ – : ﺇﻥ ﺑﺎﻝ ﻣﻦ ﻣﺠﺮﻯ ﺍﻟﺬﻛﺮ ﻓﻬﻮ ﻏﻼﻡ ، ﻭﺇﻥ ﺑﺎﻝ ﻣﻦ ﻣﺠﺮﻯ ﺍﻟﻔﺮﺝ ﻓﻬﻮ ﺟﺎﺭﻳﺔ .
হযরত আলী রা, বলেন:
যদি সে পুঃলিঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে তাহলে সে বালক,আর যদি সে স্ত্রীঃলিঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে তাহলে সে বালিকা।(আসসুনানুল কুবরা-১২১৮৬)
ইমাম শা’বী রাহ হযরত আলী রা, থেকে বর্ণনা করেন,
ﻋﻦﺍﻟﺸﻌﺒﻲ ﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﻓﻲ ﺍﻟﺨﻨﺜﻰ ﻗﺎﻝ ﻳﻮﺭﺙ ﻣﻦ ﻗﺒﻞ ﻣﺒﺎﻟﻪ
(কোনো মুওরিছ মৃত্যুর পর)ওয়ারিছকে তার প্রস্রাব রাস্তার দিক বিবেচনায় ওয়ারিছ বানানো হবে।(সুনানে দারেমী-২৯৭০)

ফেক্বাহঃ-

চার মাযহাব সম্বলিত সর্ব বৃহৎ ফিকহি গ্রন্থ
“আল-মাওসু’আতুল ফিকহিয়্যাহ “(খন্ড নং২০, পৃষ্টা নং ২১-৩২) এ এসম্পর্কে বিশদ বর্ণনা রয়েছে,নিম্নে তার চুম্বোকাংশ তুলে ধরা হল।

ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻮﺳﻮﻋﺔ ﺍﻟﻔﻘﻬﻴﺔ :
ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠُّﻐَﺔِ : ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻻَ ﻳَﺨْﻠُﺺُ ﻟِﺬَﻛَﺮٍ ﻭَﻻَ ﺃُﻧْﺜَﻰ، ﺃَﻭِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﻟِﻠﺮِّﺟَﺎﻝ ﻭَﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺨَﻨَﺚِ، ﻭَﻫُﻮَ ﺍﻟﻠِّﻴﻦُ ﻭَﺍﻟﺘَّﻜَﺴُّﺮُ، ﻳُﻘَﺎﻝ : ﺧَﻨَّﺜْﺖُ ﺍﻟﺸَّﻲْﺀَ ﻓَﺘَﺨَﻨَّﺚَ، ﺃَﻱْ : ﻋَﻄَّﻔْﺘُﻪُ ﻓَﺘَﻌَﻄَّﻒَ، ﻭَﺍﻻِﺳْﻢُ ﺍﻟْﺨُﻨْﺚُ , ﻭَﻓِﻲ ﺍﻻِﺻْﻄِﻼَﺡِ : ﻣَﻦْ ﻟَﻪُ ﺁﻟَﺘَﺎ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝ ﻭَﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ، ﺃَﻭْ ﻣَﻦْ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻪُ ﺷَﻲْﺀٌ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺃَﺻْﻼً، ﻭَﻟَﻪُ ﺛُﻘْﺐٌ ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻨْﻪُ ﺍﻟْﺒَﻮْﻝ . ﺍﻫــ .
ভাবার্থঃ-
শাব্দিক অর্থ বিবেচনায় খুনছা বলা হয়, যার একক কোনো পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ নেই।
অথবা যার পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়টি-ই রয়েছে।خنثى শব্দটা خنث শব্দ থেকে নির্গত। যার অর্থ হচ্ছে নরম, ভাঙ্গা।পরিভাষায় খুনছা(হিজড়া)বলা হয়, যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়-ই রয়েছে।অথবা যার মূলত কোনোটিই নেই।বরং তার একটি ছিদ্র রয়েছে যা থেকে প্রস্রাব বাহির হয়।(২০/২১)

ﻳَﻨْﻘَﺴِﻢُ ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﺇِﻟَﻰ ﻣُﺸْﻜِﻞٍ ﻭَﻏَﻴْﺮِ ﻣُﺸْﻜِﻞٍ :
ﺃـ ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﻏَﻴْﺮُ ﺍﻟْﻤُﺸْﻜِﻞ : ﻣَﻦْ ﻳَﺘَﺒَﻴَّﻦُ ﻓِﻴﻪِ ﻋَﻼَﻣَﺎﺕُ ﺍﻟﺬُّﻛُﻮﺭَﺓِ ﺃَﻭِ ﺍﻷْﻧُﻮﺛَﺔِ، ﻓَﻴُﻌْﻠَﻢُ ﺃَﻧَّﻪُ ﺭَﺟُﻞٌ، ﺃَﻭِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ، ﻓَﻬَﺬَﺍ ﻟَﻴْﺲَ ﺑِﻤُﺸْﻜِﻞٍ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫُﻮَ ﺭَﺟُﻞٌ ﻓِﻴﻪِ ﺧِﻠْﻘَﺔٌ ﺯَﺍﺋِﺪَﺓٌ، ﺃَﻭِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧِﻠْﻘَﺔٌ ﺯَﺍﺋِﺪَﺓٌ، ﻭَﺣُﻜْﻤُﻪُ ﻓِﻲ ﺇِﺭْﺛِﻪِ ﻭَﺳَﺎﺋِﺮِ ﺃَﺣْﻜَﺎﻣِﻪِ ﺣُﻜْﻢُ ﻣَﺎ ﻇَﻬَﺮَﺕْ ﻋَﻼَﻣَﺎﺗُﻪُ ﻓِﻴﻪِ .
ﺏ ـ ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﺍﻟْﻤُﺸْﻜِﻞ : ﻫُﻮَ ﻣَﻦْ ﻻَ ﻳَﺘَﺒَﻴَّﻦُ ﻓِﻴﻪِ ﻋَﻼَﻣَﺎﺕُ ﺍﻟﺬُّﻛُﻮﺭَﺓِ ﺃَﻭِ ﺍﻷْﻧُﻮﺛَﺔِ، ﻭَﻻَ ﻳُﻌْﻠَﻢُ ﺃَﻧَّﻪُ ﺭَﺟُﻞٌ ﺃَﻭِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ، ﺃَﻭْ ﺗَﻌَﺎﺭَﺿَﺖْ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻌَﻼَﻣَﺎﺕُ ﻓَﺘَﺤَﺼَّﻞ ﻣِﻦْ ﻫَﺬَﺍ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﻤُﺸْﻜِﻞ ﻧَﻮْﻋَﺎﻥِ :
ﻧَﻮْﻉٌ ﻟَﻪُ ﺁﻟَﺘَﺎﻥِ، ﻭَﺍﺳْﺘَﻮَﺕْ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟْﻌَﻼَﻣَﺎﺕُ، ﻭَﻧَﻮْﻉٌ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻪُ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٌ ﻣِﻦَ ﺍﻵْﻟَﺘَﻴْﻦِ، ﻭَﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻟَﻪُ ﺛُﻘْﺐٌ . ﺍﻫــ

খুনছা(হিজড়া)দুই প্রকার যথা:-
(১)মুশকিল৷
(২)গায়রে মুশকিল।
গায়রে মুশকিল হল, যার মধ্যে অনায়াসে পুরুষ বা মহিলা নির্ণায়ক আলামত বিদ্যমান রয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বুঝা যায় যে, সে পুরুষ বা মহিলা।এটা নির্ধারণ করা এত মুশকিল ব্যাপার নয়।
বরং সে এমন একজন পুরুষ যাতে অতিরিক্ত সৃষ্ট রয়েছে। অথবা সে এমন একজন মহিলা যাতে কিছু অতিরিক্ত সৃষ্ট রয়েছে। এ সমস্ত হিজড়াদের ওরাছত বা সম্পদপ্রাপ্তিসহ বিবিধ হুকুম-আহকাম প্রযোজ্য করার ব্যাপারে তার কাছ থেকে প্রকাশিত(নারী-পুরুষ নির্ণায়ক) আলামতই এক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে।

★খুনছা মুশকিল:
যার কাছে পুরুষ বা মহিলার কোনো আলামত প্রকাশ হয়নি। এবং এটাও জানা যায় নি যে, সে আসলে পুরুষ? নাকি মহিলা?
অথবা উভয় আলামতই তাতে বিদ্যমান রয়েছে।
তাহলে বোঝা গেলো, খুনছাও দু-প্রকার:
(ক) যার মধ্যে দুটি লিঙ্গই রয়েছে, তবে দুটিই বরাবর।
(খ) যার মধ্যে কোনো লিঙ্গই নেই। বরং তাতে একটি ছিদ্র রয়েছে। (২০/২১)

খুনছা (হিজড়া) পুরুষ নাকি মহিলা? না সে খুনছা মুশকিল? তার পরিচয় নির্ণায়ক আলামতসমূহ কি কি? এ সম্পর্কে বিস্তারিত মূলনীতিমূলক আলোচনা হচ্ছে-
ﻳَﺘَﺒَﻴَّﻦُ ﺃَﻣْﺮُ ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﻗَﺒْﻞ ﺍﻟْﺒُﻠُﻮﻍِ ﺑِﺎﻟْﻤَﺒَﺎﻝ، ﻭَﺫَﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺘَّﻔْﺼِﻴﻞ ﺍﻵْﺗِﻲ: ﺫَﻫَﺐَ ﺟُﻤْﻬُﻮﺭُ ﺍﻟْﻔُﻘَﻬَﺎﺀِ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﻗَﺒْﻞ ﺍﻟْﺒُﻠُﻮﻍِ ﺇِﻥْ ﺑَﺎﻝ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺬَّﻛَﺮِ ﻓَﻐُﻼَﻡٌ، ﻭَﺇِﻥْ ﺑَﺎﻝ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻔَﺮْﺝِ ﻓَﺄُﻧْﺜَﻰ، ﻭَﺇِﻥْ ﺑَﺎﻝ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ ﻓَﺎﻟْﺤُﻜْﻢُ ﻟِﻸْﺳْﺒَﻖِ، ﻭَﺇِﻥِ ﺍﺳْﺘَﻮَﻳَﺎ ﻓَﺬَﻫَﺐَ ﺍﻟْﻤَﺎﻟِﻜِﻴَّﺔُ ﻭَﺍﻟْﺤَﻨَﺎﺑِﻠَﺔُ ﻭَﺃَﺑُﻮ ﻳُﻮﺳُﻒَ ﻭَﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺤَﻨَﻔِﻴَّﺔِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻋْﺘِﺒَﺎﺭِ ﺍﻟْﻜَﺜْﺮَﺓِ، ﻭَﺣُﻜِﻲَ ﻫَﺬَﺍ ﻋَﻦِ ﺍﻷْﻭْﺯَﺍﻋِﻲِّ، ﻷِﻥَّ ﺍﻟْﻜَﺜْﺮَﺓَ ﻣَﺰِﻳَّﺔٌ ﻹِﺣْﺪَﻯ ﺍﻟْﻌَﻼَﻣَﺘَﻴْﻦِ، ﻓَﻴُﻌْﺘَﺒَﺮُ ﺑِﻬَﺎ ﻛَﺎﻟﺴَّﺒْﻖِ، ﻓَﺈِﻥِ ﺍﺳْﺘَﻮَﻳَﺎ ﻓَﻬُﻮَ ﺣِﻴﻨَﺌِﺬٍ ﻣُﺸْﻜِﻞٌ،
ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺍﻟْﺒُﻠُﻮﻍِ ﻓَﻴَﺘَﺒَﻴَّﻦُ ﺃَﻣْﺮُﻩُ ﺑِﺄَﺣَﺪِ ﺍﻷْﺳْﺒَﺎﺏِ ﺍﻵْﺗِﻴَﺔِ :ﺇِﻥْ ﺧَﺮَﺟَﺖْ ﻟِﺤْﻴَﺘُﻪُ، ﺃَﻭْ ﺃَﻣْﻨَﻰ ﺑِﺎﻟﺬَّﻛَﺮِ، ﺃَﻭْ ﺃَﺣْﺒَﻞ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً، ﺃَﻭْ ﻭَﺻَﻞ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ، ﻓَﺮَﺟُﻞٌ، ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻇُﻬُﻮﺭُ ﺍﻟﺸَّﺠَﺎﻋَﺔِ ﻭَﺍﻟْﻔُﺮُﻭﺳِﻴَّﺔِ ﻭَﻣُﺼَﺎﺑَﺮَﺓِ ﺍﻟْﻌَﺪُﻭِّ ﺩَﻟِﻴﻞٌ ﻋَﻠَﻰ ﺭُﺟُﻮﻟِﻴَّﺘِﻪِ ﻛَﻤَﺎ ﺫَﻛَﺮَﻩُ ﺍﻟﺴُّﻴُﻮﻃِﻲُّ ﻧَﻘْﻼً ﻋَﻦِ ﺍﻹْﺳْﻨَﻮِﻱِّ، ﻭَﺇِﻥْ ﻇَﻬَﺮَ ﻟَﻪُ ﺛَﺪْﻱٌ ﻭَﻧَﺰَﻝ ﻣِﻨْﻪُ ﻟَﺒَﻦٌ ﺃَﻭْ ﺣَﺎﺽَ، ﺃَﻭْ ﺃَﻣْﻜَﻦَ ﻭَﻃْﺆُﻩُ، ﻓَﺎﻣْﺮَﺃَﺓٌ ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟْﻮِﻻَﺩَﺓُ ﻓَﻬِﻲَ ﺗُﻔِﻴﺪُ ﺍﻟْﻘَﻄْﻊَ ﺑِﺄُﻧُﻮﺛَﺘِﻪِ، ﻭَﺗُﻘَﺪَّﻡُ ﻋَﻠَﻰ ﺟَﻤِﻴﻊِ ﺍﻟْﻌَﻼَﻣَﺎﺕِ ﺍﻟْﻤُﻌَﺎﺭِﺿَﺔِ ﻟَﻬَﺎ , ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺍﻟْﻤَﻴْﻞ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻳُﺴْﺘَﺪَﻝ ﺑِﻪِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟْﻌَﺠْﺰِ ﻋَﻦِ ﺍﻷﻣَﺎﺭَﺍﺕِ ﺍﻟﺴَّﺎﺑِﻘَﺔِ، ﻓَﺈِﻥْ ﻣَﺎﻝ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺮِّﺟَﺎﻝ ﻓَﺎﻣْﺮَﺃَﺓٌ ﻭَﺇِﻥْ ﻣَﺎﻝ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﻓَﺮَﺟُﻞٌ، ﻭَﺇِﻥْ ﻗَﺎﻝ ﺃَﻣِﻴﻞ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻤَﺎ ﻣَﻴْﻼً ﻭَﺍﺣِﺪًﺍ، ﺃَﻭْ ﻻَ ﺃَﻣِﻴﻞ ﺇِﻟَﻰ ﻭَﺍﺣِﺪٍ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﻓَﻤُﺸْﻜِﻞٌ , ﻗَﺎﻝ ﺍﻟﺴُّﻴُﻮﻃِﻲُّ : ﻭَﺣَﻴْﺚُ ﺃُﻃْﻠِﻖَ ﺍﻟْﺨُﻨْﺜَﻰ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻔِﻘْﻪِ، ﻓَﺎﻟْﻤُﺮَﺍﺩُ ﺑِﻪِ ﺍﻟْﻤُﺸْﻜِﻞ
ভাবার্থ:-
★বালিগ হওয়ার পূর্বে হিজড়া সন্তান প্রস্রাবের মাধ্যমে পুরুষ বা মহিলা নির্ধারিত হবে। নিম্নবর্ণিত আলোচনা লক্ষণীয়। জমহুর উলামায়ে কেরামের মতে যদি হিজড়া সন্তান পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পূর্বে পুংলিঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে তাহলে সে বালক/পুরুষ।
আর যদি সে স্ত্রীলিঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে তাহলে সে নারী হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি সে উভয়টা দিয়ে প্রস্রাব করে তাহলে সর্বাগ্রে যেটা দিয়ে প্রস্রাব বের হবে সেটার ধর্তব্য হবে।
যদি দুটি থেকে একসাথে প্রস্রাব বের হয় তাহলে মালিকী ও হাম্বলী উলামায়ে কেরামসহ ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রাহ এর মতে অধিকাংশের উপর ভিত্তি করে নারী-পুরুষ নির্ধারিত হবে। এবং ইহা ইমাম আওযায়ী রাহ. থেকেও বর্ণিত আছে। কেননা দুটি আলামতের মধ্যে একটিতে অধিকাংশ সময়ে প্রস্রাব আসার আলাদা একটা প্রভাব অবশ্যই রয়েছে। সুতরাং অধিকাংশকে অগ্রগামীর মত মূল্যায়ন করা হবে।
যদি এতেও বরাবর থাকে, তাহলে মুশকিল বলেই গণ্য হবে।

★আর বালেগ হওয়ার পর নিম্নোক্ত আলামত সমূহের মাধ্যমে হিজড়া বিষয়টির হুকুম-আহকাম নির্ণিত হবে।
যদি তার দাড়ি উঠে যায় বা পুংলিঙ্গ দিয়ে বীর্য বের হয় বা সে কোনো মহিলাকে গর্ভবতী করে দিতে সক্ষম হয় বা মহিলার সাথে সঙ্গম করতে সক্ষম হয়, তাহলে সে পুরুষ। ঠিকতেমনিভাবে যদি কারো কাছ থেকে সাহসিকতা, ঘোড়সওয়ারের যোগ্যতা ও প্রবণতা এবং শত্রুর সামনে ধৈর্যধারণের প্রবণতা প্রকাশ পায়, তাহলেও তা তার পুরুষত্বের উপর প্রমাণ করবে।যেমন ইমাম সুয়ূতি রাহ, আল্লামা ইসনাওয়ী রাহ, থেকে বর্ণনা করেন।

কিন্তু যদি হিজড়া সন্তার বালেগ হওয়ার পর স্তন প্রকাশ পায় এবং তার থেকে দুধ বাহির হয়, বা উক্ত মহিলা হায়েযা হয়ে যায়, এবং পুরুষ তার নির্দিষ্ট স্থানে সঙ্গম করতে সম্ভব হয়, (বা সে পুরুষের সাথে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সঙ্গম করতে সক্ষম হয়) তাহলে সে নারি। বিশেষ করে সন্তান জন্ম দেয়া বা গর্ভধারণ করা কারো নারি হওয়ার বড় প্রমাণ।

যদি উপরোক্ত কোনো আলামতই পাওয়া না যায়, তাহলে সর্বশেষ আকৃষ্ট প্রবণতার মাধ্যমে নারী-পুরুষ নির্ধারণ করা হবে। যদি সে পুরুষের দিকে আকৃষ্টতা অনুভব করে তাহলে সে মহিলা। আর যদি সে মহিলার দিকে আকৃষ্টতা অনুভব করে তাহলে সে পুরুষ।

যদি সে নারি-পুরুষ উভয়ের দিকেই আকৃষ্ট হয় বা নারি-পুরুষ কারো দিকে আকৃষ্টতা অনুভব না করে, তাহলে সে “খুনছা মুশকিল”। ইমাম সুয়ূতি রাহ বলেন: ফেকাহর কিতাবে যেখানেই খুনছা (হিজড়া)র আলোচনা এসেছে সেখানেই খুনছা মুশকিল উদ্দেশ্য।(২০/২১)

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতিয়মান হলো যে,
হিজরা সাধারণত দু প্রকারঃ-
(১) মুশকিল
(২) গায়রে মুশকিল

মুশকিল: যার প্রস্রাবের রাস্তা দুটি, যথা পুঃলিঙ্গ (যকর/penis) স্ত্রীলিঙ্গ (ফরজ/pussy) এবং যাকে বালেগ হওয়ার পরও কোনো ভাবেই (অর্থাৎ উপরোক্ত আলামতসমূহ থেকে কোনো আলামতের মাধ্যমে) পুরুষ বা মহিলা কোনোটার আওতাভুক্ত করা যায় না।
এমন ব্যক্তি খুনছা মুশকিল বা বাস্তবিক অর্থে হিজড়া। এরকম ব্যক্তি পৃথিবীতে খুবই কম। এসব ব্যক্তি নামাযে পুরুষ-মহিলার মধ্যবর্তী স্থানে অর্থাৎ বাচ্চাদের পিছনে মহিলাদের সামনে দাড়াবে (যেখানে নারী-পুরুষের জামাতের সাথে নামায বৈধ হবে)।
এবং এরূপ ব্যক্তি কখনো বিবাহ করতে পারবে না। কেননা কোনোভাবেই বুঝা যাচ্ছেনা সে পুরুষ নাকি মহিলা। এখন যদি তার বিবাহ পুরুষের সাথে হয়, অন্যদিকে সেও এক হিসাবে পুরুষ তাহলে পুরুষে পরুষে বিবাহ হয়ে যাবে। আর যদি মহিলার সাথে বিবাহ হয় অন্যদিকে সেও এক হিসাবে মহিলা তাহলে মহিলায় মহিলায় বিবাহ হয়ে যাবে। যা কখনো বৈধ হবে না।

সতরঃ-
عورته:
٨ – يرى الحنفية والشافعية أن عورة الخنثى كعورة المرأة حتى شعرها النازل عن الرأس خلا الوجه والكفين، ولا يكشف الخنثى للاستنجاءولا للغسل عند أحد أصلا، لأنها إن كشفت عند رجل احتمل أنها أنثى، وإن كشفت عند أنثى، احتمل أنه ذكر. وأما ظهر الكف فقد صرح الحنفية أنها عورة على المذهب، والقدمان على المعتمد، وصوتها على الراجح، وذراعاها على المرجوح
হানাফী এবং শা’ফী উলামায়ে কেরামদের মতে খুনছা মুশকিলের সতর মহিলার সতরের মত।এমনকি মাথার চুলও। তবে চেহারা এবং কব্জি পর্যন্ত হাত ব্যতিত। খুনছা ব্যক্তি ইস্তেঞ্জা বা গোসলের জন্য পুরুষ-মহিলা কারো সামনে সতর খুলতে পারবে না। কেননা সে যদি কোনো নারীর সামনে খোলে তাহলে পুরুষ সম্ভাবনায় বৈধ হবে না। আর যদি সে কেনো পুরুষের সামনে খোলে তাহলে তার নারী সম্ভাবনা থাকার ধরুন ও বৈধ হবে না।
কব্জির উপরিভাগ হানাফীদের মতে সতরের অন্তর্ভুক্ত। এবং পা দুটি নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী সতর।গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী আওয়াজ ও সতর।
আর অগ্রহনযোগ্য মতানুযায়ী কনুই পর্যন্ত হাতও সতর।
নির্জনতা:
النظر والخلوة:
صرح جمهور الفقهاء بأن الخنثى لا يخلو به غير محرم من رجل ولا امرأة، ولا يسافر بغير محرم من الرجال احتياطا، وتوقيا عن احتمال الحرام، وكذلك لا يتكشف الخنثى المراهق للنساء، لاحتمال كونه رجلا، ولا للرجال لاحتمال كونه امرأة، والمراد بالانكشاف هو أن يكون في إزار واحد، لا إبداء موضع العورة، لأن ذلك لا يحل لغير الأنثى أيضا.
জমহুর উলামায়ে কেরামদের মতে “খুনছা মুশকিল” কোনো গায়রে মাহরাম পুরুষ বা মহিলার সাথে নির্জনে, একাকিত্বে সময় অতিবাহিত করতে পারবে না। এবং গায়রে মাহরাম পুরুষের সাথে কোথাও সফরে যেতে পারবে না। সতর্কতাবশতঃহারাম থেকে বেছে থাকতে এমন হুকুম আরোপ করা হয়েছে। ঠিকতেমনিভাবে বালিগ বা বালিগের নিকটবর্তী “খুনছা মুশকিল” নারী বা পুরুষ কারো সামনে এক কাপড়ে বসতে পারবে না অর্থাৎ কিছুটা কাপড়/হেজাব খোলে রাখতে পারবে না, যদিও তার সতর পরিমান ঢাকা থাকেনা কেন? কেননা “খুনছা মুশকিল” পুরুষ-মহিলা উভয়ই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিয়ে:-
খুনছা মুশকিলের বিয়ে সহীহ হবে না। তবে গায়রে মুশকিলের বিবাহ বিপরীতলিঙ্গ কারো সাথে বৈধ হবে।যেমনঃ-
نكاحه:
وإن زوجه أبوه أو مولاه امرأة أو رجلا لا يحكم بصحته حتى يتبين حاله أنه رجل أو امرأة فإذا ظهر أنه خلاف ما زوج به تبين أن العقد كان صحيحا، وإلا فباطل لعدم مصادفة المحل
যদি “খুনছা মুশকিল”কে তার পিতা বা মালিক কোনো পুরুষ বা মহিলার সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত তার পুরুষ বা মহিলা হওয়ার পৃথক নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমান পাওয়া যাবে না ততক্ষণ পর্যন্ত বিবাহ বৈধ হবে না। সুতরাংযখন প্রমানিত হবে যে,তার বিবাহ বিপরীতলিঙ্গ কারো সাথে হয়েছে তখন উক্ত বিবাহ বৈধ হবে। নতুবা বিয়ের মহল না হওয়ার ধরুণ বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে।
তাবয়ীনুল হাক্বাঈক-৬/২১৮।
:
١٦ – ذهب الحنفية إلى أن الخنثى إن زوجه أبوه رجلا فوصل إليه جاز، وكذلك إن زوجه امرأة فوصل إليها، وإلا أجل كالعنين
الأشباه والنظائر لابن نجيم / ٣٨٢، ٣٨٣، ط دار الفكر.
হানাফি উলামায়ে কেরামের মতে
যদি ”খুনছা মুশকিল”কে তার পিতা কোনো পুরুষের কাছে বিয়ে দিয়ে দেয়, এবং উক্ত পুরুষ তার সাথে সঙ্গম করতে সক্ষম হয়ে যায় তাহলে বিবাহ বৈধ রয়েছে।
ঠিকতেমনিভাবে যদি “খুনছা মুশকিলকে” তার পিতা বিয়ে করিয়ে কোনো মহিলাকে ঘরে নিয়ে আসে, এবং উক্ত খুনছা মুশকিল নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে উক্ত মহিলার সাথে সঙ্গম করতে সক্ষম হয়ে যায়, তাহলে ও উক্ত বিবাহ বৈধ রয়েছে।নতুবা তার হুকুম ধ্বজভঙ্গের হুকুমের মত হবে।
(আল-আশবাহ-ইবনে নুজাইম-৩৮২)

(২) গায়রে মুশকিলঃ
আবার কয়েক ধরণের হতে পারে যথা:-
(ক)
যার শুধুমাত্র পুংলিঙ্গ আছে, কিন্তু আবার তার স্তনও কিছুটা উন্নত রয়েছে,এবং তার সাধারণ চলাফেরা প্রায় মহিলাদের মত।
(খ)
যার শুধুমাত্র স্ত্রীলিঙ্গ আছে,কিন্তু তার স্তন মোটেই নেই,আবার চলাফেরা, মনমানসিকতা প্রায় পুরুষদের মত।
বিয়ের ক্ষেত্রে “ক”কে পুরুষ এবং “খ”কে নারী সাব্যস্ত করে তাদের মধ্যকার বিবাহ বৈধ হবে।এবং মিরাছের ক্ষেত্রেও উপরোক্ত হুকুম প্রযোজ্য হবে।
(গ)
যার পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীংলিঙ্গ উভয়টি আছে কিন্তু উপরোল্লিখিত আলামত সমুহের মাধ্যমে তাকে পুরুষ বা স্ত্রী হিসাবে নির্ণয় করা যায়।

এসমস্ত ব্যক্তিবর্গকে পুরুষ বা মহিলা হিসাবে চিন্থিত করা যাবে। এবং ইসলামী শরীয়ত ও তাদেরকে মিরাছ ও বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ বা মহিলা হিসাবে চিন্থিত করে তাদের উপর সাধারণ পুরুষ বা মহিলা হুকুম আরোপ করে থাকে।অর্থাৎ এক হিজড়া বিপরীতধর্মী অন্য হিজড়ার সাথে বা সাধারণ কোনো মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।তবে এক্ষেত্রে শরীয়ত সমর্থিত সহবাসের বৈধ পদ্ধতিকে অনুসরণ করতে হবে।

এ সম্পর্কে তাবয়ীনুল হাক্বাঈক নামক গ্রন্থে বর্ণিত আছে-
[تزوج الخنثى من خنثى]
وكذا إذا زوج الخنثى من خنثى آخر لا يحكم بصحة النكاح حتى يظهر أن أحدهما ذكر، والآخر أنثى، وإن ظهر أنهما ذكران أو أنثيان بطل النكاح،
যদি কোনো খুনছা (হিজড়া) অপর কোনো খুনছা (হিজড়া) কে বিয়ে করে, তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে, বিপরীতলিঙ্গ দুজনের বিয়ে হয়েছে ততক্ষণ বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার হুকুম আরোপ করা যাবে না। কিন্তু যদি প্রকাশ হয় যে, দুজনই পুরুষ বা দুজনই মহিলা তাহলে বিবাহ বাতিল বলে পরিগণিত হবে।
তাবয়ীনুল হাক্বাঈক-৬/২১৮।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর প্রদান করেছেন: মুফতি ইমদাদুল হক
উস্তায: জালালপুর কাসিমুল উলুম মাদরাসা, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ৷

Share.

লেখক পরিচিতি

mm

Leave A Reply

Top