ফরয নামাযের পর তাসবীহ পাঠ

0

আসসালামু আ’লাইকুম
প্রশ্ন: খুব প্রচালিত একটা আমল হল নামাযের পরে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়া। এক্ষেত্রে আমি অনেক জায়গায় দুই রকম নিয়ম দেখি। কিন্তু সঠিক কোনটা সেটা সে ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি। আশা করি উত্তর দিয়ে সাহায্য করবেন….

১. ৩৩বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার

২. ৩৩বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার ও একবার লা ইলাহা ইলাল্লাহু ওয়াহদাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদির।

উত্তর: বিশুদ্ধ বর্ণনায় ফরয নামাযের পর এই তাসবীহগুলো পাঠের ৪ ধরনের ৪ টি বিবরণ এসেছে-

১- সুবহানাল্লাহ ১০ বার, আলহামদুলিল্লাহ ১০ বার, আল্লাহু আকবার ১০ বার৷ (আবু দাউদ: ৫০৬৫)

২- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার করে৷ আর “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল-মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর” পড়ে ১০০ পুরা করা৷ (সহিহ মুসলিম: ৫৯৭)

৩- সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৪ বার৷ (সহিহ মুসলিম: ৫৯৬)

৪- সুবহানাল্লাহ ২৫ বার, আলহামদুলিল্লাহ ২৫ বার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ২৫ বার, আল্লাহু আকবার ২৫ বার৷ সর্বমোট ১০০ বার৷ (নাসাঈ: ১৩৫০)

এই চার-চারটি পদ্ধতিই যেহেতু হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, তাই আমল সব পদ্ধতিতেই করা যায়৷ যেমন হাতে সময় কম থাকলে ১০ বারের উপর আমল করলেন৷ পর্যাপ্ত সময় থাকলে ৩৩ এবং ৩৪ বারের উপর আমল করলেন৷ অথবা ২৫ বারের উপরও আমল করলেন৷ নতুবা সবগুলো বিবরণের উপরও একসঙ্গে আমল করা সম্ভব৷

নামাযের পর তাসবীহ পাঠ সম্পর্কিত ফযিলতের একটি হাদিস-

عَنْ عبد اللَّه بن الزُّبَيْرِ رضي اللَّه تعالى عنْهُما، عنْ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم قالَ: مَنْ سَبَّحَ اللَّه في دُبُرِ كُلِّ صلاةٍ ثَلاثاً وثَلاثينَ، وَحمِدَ اللَّه ثَلاثاً وثَلاثين، وكَبَّرَ اللَّه ثَلاثاً وَثَلاثينَ وقال تَمامَ المِائَةِ: لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدَه لا شَريك لهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحمْد، وهُو على كُلِّ شَيءٍ قَدِير، غُفِرتْ خطَاياهُ وإن كَانَتْ مِثْلَ زَبدِ الْبَحْرَ (رواهُ مسلم).
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা, থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার এবং “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল-মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর” পড়ে ১০০ পুরা করবে, তার গোনাহগুলো মাফ করে দেয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের জলরাশির ন্যায় হোক না কেন৷ (মুসলিম: ৫৯৭)

আল্লাহ পাক আমল করার তাওফিক দান করুন৷ আমীন৷

উত্তর প্রদানে- মুফতি জিয়াউর রহমান
পরিচালক: ইসলামিক ফিকহ ইনস্টিটিউট, সিলেট৷

Share.

লেখক পরিচিতি

mm

Leave A Reply

Top