বিয়ের সময় স্বামীকে মন থেকে মেনে নিতে না পারলে

0

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। আমার এক পরিচিত মেয়ের প্রশ্ন এটি। সে তার বিয়ে নিয়ে সন্দেহে আছে।

বিয়ের সময়, সে তার হবু স্বামী এবং শশুরবাড়ির কিছু মানুষের আচরনে বিয়েতে রাজি খুশি ছিলো না। কিন্তু, তার অভিভাবক তাকে এই বিয়েতে কোনরকম জোর করেনি। তবে, শেষ মুহূর্তে, সবরকম আয়োজনের পর সামাজিক কারনে সে এই বিয়ে থেকে পিছিয়েও আসতে পারেনি।

কবুল পড়ানোর সময়, সে মনে মনে আল্লাহকে বলে, “আল্লাহ তুমি সাক্ষী, আমি এই বিয়েতে রাজি না।” কিন্তু, সে এরপর মুখে তিনবার কবুল বলে এবং সাইনও করে। তবে, সে কবুল বলার মুহূর্তেও রাজি খুশি ছিলো না। বিয়ের পরও সে তার স্বামীর প্রতি সবসময় সন্তুষ্ট ছিলো না। প্রায়ই বলতো যে, তার ঘরটা তার নিজের মনে হয় না।

সে যেহেতু মনে মনে কবুল বলার সময় নারাজি ছিলো এবং এখনও সে মন থেকে পুরোপুরি তার স্বামীকে গ্রহন করতে পারেনি, তার বিয়েটা বৈধ হবে কি না। ওর বিয়ের পর প্রায় আড়াই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

প্রশ্নটি কিছুটা অদ্ভুত শোনাতে পারে, তবে একজন মেয়ের মানসিক শান্তি ও সংসারের দৃড়তার জন্য দয়া করে উত্তর দিয়ে সাহায্য করবেন। জাযাকাল্লাহ খায়ের।

উত্তর: বিয়ে একটি পবিত্র বন্ধন৷ বিয়ে পরবর্তী জীবনে এই বন্ধনকে সুদৃঢ় এবং মোহময় করে রাখার স্বার্থেই বিয়ের আগে একে অপরকে দেখে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে৷ সম্মত হলে বিয়েতে রাজি হবেন, নতুবা হবেন না৷ ওই বোন বিয়েতে সম্মত ছিলেন৷ মনে মনে রাজি না থাকলেও তিনি চুপ থেকেছেন৷ বিয়েতে সরাসরি অমত করেন নি৷ এটাই সম্মতি৷ তাছাড়া অনুমতি নেওয়ার সময় তার অসম্মতি প্রকাশ করেন নি৷ তাই কবুল বলার সাথে সাথে তার বিয়ে হয়ে গেছে৷ দেখুন, হাদিসে এসেছে-
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ إِذْنُهَا? قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কোনো বিধবা নারীকে তার সম্মতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দিতে পারবে না। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেমন করে তার (কুমারির) অনুমতি নেয়া হবে? তিনি বললেন: তার চুপ থাকাটাই হচ্ছে, তার অনুমতি। (বুখারী: ৫১৩৬ ও মুসলিম: ১৪১৯)

তাছাড়া আরেকটি হাদিসে এসেছে-

ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلَاقُ وَالرَّجْعَةُ.

অর্থ: তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যে, বাস্তবে করা এবং ঠাট্টাচ্ছলে দুই-ই সমান৷ তন্মধ্যে একটি হচ্ছে- বিয়ে, দ্বিতীয়টি হচ্ছে- তালাক, তৃতীয়টি হচ্ছে- রাজ’আত তথা এক বা দুই তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়া৷ (আবু দাঊদ: ২১৯৪, তিরমিযী: ১১৮৪)

এখন তার করণীয় হলো, বিয়েটা মেনে নেয়া৷ স্বামীকে তার প্রাপ্য আদায় করা৷ সংসারে মনোযোগী হওয়া৷ আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়া৷ আল্লাহ তাআলা বলেছেন-
 ۖوَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ
অর্থ: আর হতে পারে তোমরা কোনো-কিছু অপছন্দ করলে, অথচ তা তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক৷ (সুরা বাকারা: ২১৬)

সবসময় নিজেকে আমলের উপর রাখবেন৷ তিলাওয়াত ও যিকির-আযকার করবেন৷ পর্দার সাথে চলবেন৷ স্বামীকেও নামায ও অন্যান্য আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন৷ পরিবারে দীনী ও আমলী পরিবেশ গড়ে তুলবেন৷ দেখবেন শান্তি পাবেন৷ অন্তরে প্রশান্তি আসবে৷ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রহমত ও বরকত লাভ করবেন ইনশাআল্লাহ!

(আরো বিস্তারিত দেখার জন্য ফাতাওয়া হিন্দিয়া:১/২৮৭, শামী: ৩/৫৮, মাহমুদিয়া: ১৬/২৩৫ দ্রষ্টব্য)

উত্তর প্রদানে- মুফতি জিয়াউর রহমান
পরিচালক: ইসলামিক ফিকহ ইনস্টিটিউট, সিলেট৷

Share.

লেখক পরিচিতি

mm

Leave A Reply

Top