বিয়ে নিয়ে কতিপয় বিভ্রান্তির অপনোদন

0

জিয়াউর রহমান৷

আমাদের সমাজে বিবাহ নিয়ে যে ভ্রান্তিগুলো কাজ করছে, তার অপনোদন হওয়া দরকার৷ মানুষ বিয়ে করতে ভয় পায়, অভিভাবকরা নিজের সন্তানদের বিয়ে করাতে ভয় পায়৷ কিন্তু গোনাহে লিপ্ত হওয়াকে ভয় পায় না৷ বিয়ে করে না স্ত্রীর ভরণ-পোষণের ভয়ে৷ অথচ সে ঠিকই প্রতিমাসে তিন স্ত্রীর ভরণ-পোষণের সমপরিমাণ টাকা উড়ায়৷ তখন টাকার অভাব হয় না৷ এরকম নানা অজুহাতে বিয়ে-আতঙ্কে ভুগছে আমাদের সমাজ৷ এই ছোট্ট লেখায় বিবাহ নিয়ে দুটি চরম ভ্রান্তি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছি৷

চরম ভ্রান্তি-১
মানুষ দুই প্রকার, জীবিত এবং বিবাহিত৷ যদিও কথাটি ঠাট্টাচ্ছলে বলা হয়, কিন্তু এই বিভ্রান্তিমূলক কথা সমাজে এতটাই প্রচার পেয়েছে যে, মানুষ সিরিয়াসলি ভাবতে শুরু করেছে, আসলেই মনে হয় যে বিয়ে করেছে, সে মরেছে৷ যারা এই কথাটি সমাজে প্রচার করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কী জানি না, তবে এই চরম বিভ্রান্তিমূলক ভুল প্রচারণা যুবসমাজের চারিত্রিক স্খলন অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই৷

অথচ প্রচারণা হওয়ার কথা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত৷ এবং এটাই যুক্তিযুক্ত ও শরীয়তবান্ধব৷ অর্থাৎ যে বিয়ে করল, সে বাঁচল৷ এই বাঁচার কথা হাদীসে এসেছে, বুখারী শরীফের হাদীস-
فإنه أغض للبصر وأحصن للفرج
অর্থাৎ বিয়ের দ্বারা চোখের এবং সম্ভ্রমের হেফাযত হয়(হাদীস নং- ৫০৬৬)৷ অন্য এক রেওয়ায়তে বিয়ের দ্বারা ফিতনা-ফাসাদ থেকে বাঁচার কথা বলা হয়েছে৷ তাহলে বুঝা গেলো, বিয়ের মধ্যে বাঁচার অর্থ আছে মরার নয়৷

আলহামদুলিল্লাহ, আমি নিজেও বিয়ে করেছি৷ আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি এবং খুব ভালো হালতেই বেঁচে আছি৷ বিয়ে করার পর মনে হয়েছে, মরি নাই তো বরং যেন হায়াত বেড়েছে৷ যারা বিয়ে করার পর দাম্পত্য জীবনে অসুখী হওয়ার কারণে ‘মরেছে’ মনে করে, মূলত বিয়ের আগেই তারা মরার বন্দোবস্ত করে রেখেছিল, যা বিয়ের পর ভুগছে৷ অর্থাৎ বিবাহপূর্ব জীবনের চারিত্রিক স্খলনগুলো তাকে বিবাহ-পরবর্তী জীবনে অশান্তিতে নিপতিত করেছে৷ যা দ্বীনের পথে সম্পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে উত্তরণ সম্ভব৷

চরম ভ্রান্তি-২
আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নিই, তারপর বিয়ের কথা ভাবা যাবে৷ অথচ এরকম কথা এমন কিছু মানুষ বলে, যাদের দৈনন্দিন পকেট খরচ দিয়ে একজন কেন, চারজনের ভরণ-পোষণ সম্ভব৷ এ তো গেলো একশ্রেনীর মানুষের কথা৷ আরও একশ্রেনীর মানুষ আছে, যারা সত্যি অসচ্ছল৷ কিন্তু তাদের আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল নেই৷ তারা রিযিকের ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে নিছে (?)৷ বিয়ে করলে স্ত্রীকে খাওয়াবে কী করে, সেই চিন্তায় মরে, অথচ নিজেকে কে খাওয়ায়, সেই খবর তাদের নেই৷ যে ঘরে আসবে, সে যে নিজের রিযিক নিয়েই আসবে, সেই বিশ্বাসও তাদের নেই৷ কাজে-কর্মে সেটাই প্রমাণ করে৷

অথচ পবিত্র কুরআনের একাধিক জায়গায় বিয়ের সঙ্গে রিযিকের সম্বন্ধ করেছেন৷ এমনকী সুরা নূরে আল্লাহ তা’আলা পরিষ্কার বলেছেন
إن يكونوا فقراء يغنهم الله من فضله( النور32)
(নেক স্বামী-স্ত্রী বিয়ের পর) তারা যদি অসচ্ছল হয়, আল্লাহ তা’আলা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল বানিয়ে দেবেন৷ এত চমৎকার সুসংবাদ পাওয়ার পরও আমরা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অপেক্ষা করতে করতে প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছে যাই৷ যেহেতু বিয়ে করতেই হবে, এমন মনমানসিকতাই আমাদের সমাজের প্রায় সব যুবকরা লালন করে থাকে, তাহলে আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে বিয়ের পিড়িতে বসে যাওয়াই কী বুদ্ধিমানের কাজ নয়? আল্লাহ সবাইকে সুমতি দান করুন৷

লেখক: মুফতি জিয়াউর রহমান
পরিচালক: সিয়ানাহ ট্রাস্ট
ও ইসলামিক ফিকহ ইনস্টিটিউট, সিলেট৷

Share.

লেখক পরিচিতি

mm

Leave A Reply

Top