জুমার বয়ান

0

জুমার বয়ান

বিষয়: মুহাররম, আশুরা, হুসাইন রাযি. কারবালা ও ইয়াযীদ

তারিখ: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯.
৬ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরী।

আলোচক:
মুফতি জিয়াউর রহমান

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وبعد: 

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম!

হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস মুহাররম মাস৷ আশহুরে হুরুমের মাস৷ সম্মানিত চার মাসের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস৷ আল্লাহ তাআলার মাস৷ একটি জাতির ঐতিহাসিক তওবা কবুলের মাস৷ জীবনের বাঁক ঘুরানো আরেকটি নতুন বছরের প্রথম মাস৷ পাশাপাশি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার ভিত্তিতে অত্যন্ত বেদনাবিধুর ও স্বজন হারানোর কষ্টের মাসও এটি৷ সেই ফযিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাস আমাদের মাঝে উপস্থিত৷

প্রতিটা মুহূর্ত, ঘণ্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস অথবা বছর- সবগুলাই আমাদের জন্য নতুনভাবে আসে৷ যে দিনগুলো চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না৷ বরং নতুন আরেকটি দিনে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উপনীত করেন৷ সেই ধারাবাহিকতায় আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে নতুন আরেকটি বছর দিয়েছেন৷ ১৪৪০ হিজরি বিদায় হয়ে ১৪৪১ হিজরি শুরু হয়েছে৷ ফালিল্লাহিল হামদ! আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা দরকার মৌখিকভাবে এবং আমলিভাবে৷

মুহাররম মাসকে হাদিসের ভাষায় “শাহরুল্লাহ” বা আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে৷ সব মাসই আল্লাহ তাআলার৷ কিন্তু বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যের আলোকে, সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে এই মাসকে আল্লাহর মাস বলে হাদিসে বিশেষত্ব প্রদান করা হয়েছে, যেমনটা করা হয়েছে বায়তুল্লাহ’র বেলায়৷ সব মসজিদই আল্লাহর ঘর৷ কিন্তু বায়তুল্লাহকে আল্লাহর ঘর বলে পৃথক বিশেষত্ব প্রদান করা হয়েছে তার বিশেষ মর্যাদার কারণে৷

মুহতারাম হাযেরীন!

এক হাদিসে এসেছে- রামাযানের পরে মুহাররম মাস হচ্ছে মাসসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস৷ (নাসাঈ কুবরা: ৪২১৬, আহমদ, দারেমী, তাবারানী)
যেহেতু রামাযানের পরেই এই মাস হচ্ছে, সর্বশ্রেষ্ঠ মাস, তাই এই মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো, অধিক পরিমাণে সিয়াম পালন করা৷ হাদিসে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللهِ الْمُحَرّمُ.

অর্থ: আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন: রামাযানের পর সবচে উত্তম রোযা হলো আল্লাহর মাসের রোযা, অর্থাৎ মুহাররম মাসের।
(সহিহ মুসলিম: ১১৬৩)

যেহেতু রামাযান মাসের পরেই এই মাসে রোযার ফযিলত সবচে বেশি, তাই এই মাসে যে কোনো দিন রোযা পালন করা ফযিলত এবং সওয়াবের আমল৷ আসুন, আমরা চেষ্টা করি৷

আশুরার রোযা:

মুহতারাম হাযেরীন!
আসুন, আমরা আশুরার রোযার ইতিবৃত্ত ও ফযিলত সম্পর্কে জেনে নিই৷

রাসুলুল্লাহ ﷺ যখন হিজরত করে মদিনায় এলেন, তখন দেখলেন ইহুদিরা মুহাররামের দশম তারিখে রোযা পালন করে৷ জিজ্ঞেস করার পর জানতে পারলেন, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও বনি-ইসরাইল ফেরাউনের আক্রমণ থেকে আল্লাহ তাআলার কুদরতের প্রত্যক্ষ নিদর্শন হিসেবে রক্ষা পাওয়া এবং কোনো বাহন ছাড়াই সমুদ্র পারি দেয়ার এবং ফেরাউন ও ফেরাউন বাহিনীকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করার মতো অলৌকিক ঘটনার জন্যে আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হযরত মূসা আলাইহিস সালাম এই দিবসে রোযা রেখেছিলেন৷ তাই উম্মত হিসেবে তারাও রোযা রাখে৷ তখন রাসূল ﷺ বললেন-
فَأَنَا أَحَقُّ بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ.
(رواه البخاري)
মূসা আলাইহিস সালামের ক্ষেত্রে (সেই ঘটনার স্মৃতি হিসেবে) তোমাদের চেয়ে আমি বেশি হকদার৷ তখন হজুর ﷺ ও রোযা রাখলেন এবং (সবাইকে) রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন৷ (সহিহ বুখারি: ১৮৬৫)

ইবনে আব্বাস রা. বলেন:
مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلا هَذَا الْيَوْمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ. (رواه البخاري)
আমি রাসুলুল্লাহ ﷺকে এ সওম ছাড়া অন্য কোনো সওমকে এত গুরুত্ব দিতে দেখি নি। আর তা হলো আশুরার সওম ও এই রমজান মাসের সওম৷ (সহিহ বুখারি: ১৮৬৭)

অন্য হাদিসে এসেছে-
صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ.
আশুরার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আশা পোষণ করি, তিনি পূর্ববর্তি এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেবেন। (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৬)

আশুরা তথা ১০ম তারিখের সঙ্গে পূর্বে একদিন অথবা পরে একদিন মিলিয়ে রোযা রাখার কথা হাদিসে এসেছে৷ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
صُومُوا يَوْمَ عَاشُورَاءَ، وَخَالِفُوا فِيهِ الْيَهُودَ صُومُوا قَبْلَهُ يَوْمًا وَبَعْدَهُ يَوْمًا
অর্থ: তোমরা আশুরার দিন রোযা রাখ। আর এ ব্যাপারে ইহুদিদের সাথে পার্থক্য স্থাপন করে আশুরার একদিন আগে অথবা একদিন পরে মিলিয়ে রোযা রাখ৷ (সুনানে তিরমিযি: ২১৫৪)

যদিও রাসুলুল্লাহ ﷺ সারাজীবন কেবল দশম তারিখেই রোযা রেখেছেন৷ তবে আগামি বছর ৯ম তারিখ মিলিয়ে দুটি রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেছিলেন৷ কিন্তু আগামি বছর আর হায়াতে পান নি বিধায় সংকল্পও বাস্তবায়ন করতে পারেন নি৷ এ ক্ষেত্রে সুন্নাহ হচ্ছে, ৯ম তারিখ মিলিয়ে আশুরার রোযা রাখা৷ তবে একান্ত প্রয়োজনে ১০ তারিখের সঙ্গে ১১ তারিখ মিলিয়ে রাখলেও হবে৷ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لَأَصُومَنَّ الْيَوْمَ التَّاسِعَ 
আমি যদি আগামি বছর বেঁচে থাকি, তাহলে অবশ্যই নয় তারিখে রোযা রাখব৷ (মুসনাদে আহমাদ: ৩২১৩)

শুধু একটি তথা ১০ তারিখের রোযা রাখা:

মুস্তাহাব তো হচ্ছে আশুরার রোযার আগে অথবা পরে আরেকটা রোযা মিলিয়ে রাখা৷ কিন্তু কেউ যদি কারণবশত শুধু ১০ম তারিখ রোযা রেখে দেয় বা রাখতে চায়, তাহলে রাখতে পারবে, অসুবিধা নেই৷ শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ, আল-ফাতাওয়াল কুবরা’য় ও ইবনে হাজার হাইতামী রাহ, তুহফাতুল মুহতাজে শুধু আশুরা দিবস তথা ১০ম তারিখে রোযা রাখলে মাকরূহ না হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন৷ ঠিক তদ্রূপ শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রাহ, মাআরিফুস সুনানেও এরকম বলেছেন৷ উস্তাযে মুহতারাম মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া রাহ,ও মাকরূহ না হওয়ার পক্ষে মত ব্যক্ত করেছেন৷

সম্মানিত মুসল্লিয়ানে কেরাম!

সায়্যিদুনা হুসাইন রাযি. এর নির্মম শাহাদাত বরণে সত্যি আমরা ব্যথিত, মর্মাহত, শোকস্তব্ধ৷ নিঃসন্দেহে হযরত হুসাইন রাযি. এর কারবালার ময়দানে মর্মান্তিক শাহাদাত বরণের ঘটনা উম্মতের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনাবিধুর ও হৃদয়বিদারক৷ এই ব্যথা ও কষ্ট ভুলে যাবার নয়৷ এর শোকগাথা প্রত্যেক মুমিনের স্মৃতিপটে সতত জাগরূক৷ হাদিসের ভাষায় বলি-
إِنّ العَيْنَ تَدْمَعُ، وَالقَلْبَ يَحْزَنُ، وَلاَ نَقُولُ إِلّا مَا يَرْضَى رَبّنَا.

অর্থ: চোখ অশ্রু বর্ষণ করছে। অন্তর ব্যথিত হয়ে উঠছে। তবে আমরা কেবল সে কথাই বলব যা আমাদের প্রভুকে সন্তুষ্ট করে৷ (আল্লাহর ফায়সালা যথার্থ। আমরা তাঁর ফায়সালায় পূর্ণ সন্তুষ্ট।) (সহিহ বুখারি: ১৩০৩)

তবে শোকার্ত হয়ে চিৎকার করে কান্নাকাটি করা, মাটিতে গড়াগড়ি করা, শরীরে আঘাত করা, রক্তাক্ত করে দেয়া, চুল ছেড়া, কাপড় ছেড়া ইত্যাদি হারাম। কেননা নবি কারিম ﷺ বলেছেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ

“সে ব্যক্তি আমাদের লোক নয় যে গালে চপেটাঘাত করে, জামার পকেট ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের মত ডাকে। (বুখারি: ১২৯৪, মুসলিম: ১৬৫)

রাসূল ﷺ আরও ইরশাদ করেন:

النِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ

অর্থ: বিলাপ করা (কারও মৃত্যুতে চিৎকার করে কান্নাকাটি করা, মৃত ব্যক্তির বিভিন্ন গুণের কথা উল্লেখ করে মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি করা, শরীরে আঘাত করা, জামা-কাপড় ছেঁড়া ইত্যাদি) জাহেলি যুগের কাজ। (ইবনু মাজাহ)

আশুরার দিবসটি কেবল কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়৷ বরং ঐতিহাসিকভাবে আশুরার দিবসটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদার অধিকারী হয়েছে সেই আদিকাল থেকে৷ কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা তো রাসুল ﷺ ইন্তেকালের অনেক পরে সংঘটিত হয়েছে৷ অথচ ইসলামে এই দিবস মর্যাদার স্বীকৃতি পেয়েছে রাসুল ﷺ এর জীবদ্দশাতেই৷ কিন্তু আজ আমাদের সমাজ দীনের সঠিক জ্ঞানের অভাবের কারণে আশুরার দিবসকে ‘কারবালা দিবস’ বানিয়ে ফেলেছে৷ এই দিনটি এলে শীয়া ধর্মাবলম্বীদের দেখাদেখি আমাদের দীনি শিক্ষা-দীক্ষাহীন সমাজও বিভিন্ন অনাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে৷ হযরত হুসাইন রাযি. এর মর্মন্তুদ শাহাদাত বরণকে নিয়ে তারা যে ঠাট্টা-মশকরা করে, সত্যিকারের কোনো মু’মিন এমনটা করতে পারে না৷

কারো ইনতিকালে শরীয়তের হুকুম হলো সবর করা। দুআ করা৷ যিনি ইন্তেকাল করেন, তিনি যদি অনুসরণীয় হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা৷ শরীয়ত সবরের দুআও শিখিয়ে দিয়েছে। যেমন হাদিসে এসেছে রাসুল ﷺ কোনো সাহাবি বিপদাপন্ন হলে বা ঘনিষ্ঠ কেউ মারা গেলে এই দুআ পড়তেন এবং ধৈর্য ও সওয়াবের আশা পোষণের নসিহত করতেন৷
إِنَّ لِلَّـهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمَّىً… فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ

অর্থ: নিঃসন্দেহে আল্লাহ যাকে উঠিয়ে নিয়েছেন সে তাঁরই। যাকে রেখে দিয়েছেন সেও তাঁর। তাঁর কাছে প্রত্যেক জিনিসেরই নির্ধারিত মেয়াদ রয়েছে। তাই তোমার উচিত সবর করা এবং আল্লাহ তাআলার কাছে সওয়াবের আশা করা।(সহিহ বুখারি: ১২৮৪)

সম্মানিত হাযেরীন!

তৎকালিন শাসক ইয়াযীদ ছিলো হযরত মুআবিয়া রাযি. এর পুত্র৷ হযরত মুআবিয়া রাযি.-ই ইয়াযীদকে তাঁর পরবর্তি শাসক নিযুক্ত করেছিলেন৷ এই কারণে একদল মানুষ মুআবিয়া রাযি. সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করে, অযাচিত কথাবার্তা বলে৷ এটি একটি মারাত্মক ভ্রান্তি, চরম পর্যায়ের অন্যায়৷ কেননা মুআবিয়া রাযি. হচ্ছেন একজন সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ সাহাবি৷ তিনি সাধারণ পর্যায়েরও কোনো সাহাবি নন, বরং গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচিত, ওহী লেখক ও একজন প্রাজ্ঞ ফকীহ সাহাবি৷ তিনি যখন ইয়াযীদকে তাঁর পরবর্তি শাসক হিসেবে নিয়োগ দেন, তখন ইয়াযীদের চারিত্রিক অবস্থা ভালো ছিলো এবং শাসনভার আঞ্জাম দেওয়ার মতো যোগ্যতা তার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছিল৷ পাশাপাশি সাহাবা ও তাবেয়ী পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি তাকে পরবর্তি শাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে মুআবিয়া রাযি.কে পরামর্শও দিয়েছিলেন৷

তাছাড়া হাদিসে কনস্টান্টিনোপলের নৌযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষমাপ্রাপ্ত হবার সুসংবাদ এসেছে৷ মু‘আবিয়া রাযি. এর খেলাফত কালে ৫১ হিজরী মতান্তরে ৪৯ হিজরী সনে ইয়াযীদের নেতৃত্বে রোমকদের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের উদ্দেশ্যে ১ম যুদ্ধাভিযান প্রেরিত হয়। উক্ত নৌযুদ্ধে সাহাবি আবু আইয়ূব আনসারি রাযি. মারা যান ও কনস্টান্টিনোপলের প্রধান ফটকের মুখে তাঁকে দাফন করা হয়। 

কুফাবাসির বারবার বারবার পীড়াপীড়ি এবং নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে হযরত হুসাইন রাযি. কুফার দিকে রওয়ানা দেন৷ ইয়াযীদ নিজের ক্ষমতা নিষ্কন্টক করতে কেবল চেয়েছিল হুসাইন রাযি. যেন কুফায় প্রবেশ করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে৷ কখনোই হুসাইন রাযি.কে হত্যা করা তার উদ্দেশ্য ছিলো না৷ কিন্তু মুনাফিক মার্কা অতি উৎসাহি গভর্ণর উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদ নির্মম হত্যার মাধ্যমে ইতিহাসে ঘৃণ্য নজির স্থাপন করল৷ তবুও আমরা ইয়াযীদকে নির্দোষ মনে করি না৷ আহলে বাইতের নির্মম শাহাদতের পেছনে সেও যে দায়ী এতে কোনো সন্দেহ নেই৷

তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা হচ্ছে, ইয়াযীদের প্রতি ভালোবাসাও রাখব না৷ আবার ইয়াযীদকে কাফির আখ্যা দেয়া, গালিগালাজ, লা’নত-অভিশাপ করাও যাবে না৷ কারণ ইয়াযীদকে গালি দিলে তো সওয়াবের আশা নেই৷ বরং গালি দিলে গোনাহের সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে৷ বরং এক্ষেত্রে তাকে একজন অন্য সাধারণ ত্রুটিপূর্ণ মুসলিম শাসক হিসেবে দেখাই ইনসাফের দাবি৷

লেখক: মুফতি জিয়াউর রহমান
ইমাম ও খতিব আম্বরখানা জামে মসজিদ, সিলেট

Share.

লেখক পরিচিতি

mm

Leave A Reply

Top