“পূজায় গেলে কী হবে? আমার ঈমান তো ঠিক আছে”

0

বিধর্মীরা তাদের পূজা-অর্চনায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সঙ্গে শিরক করে, এটা তারা জেনেবুঝেই করে৷ এবং এটাকে তারা দোষের কিছু মনে করে না৷ দোষকে দোষ মনে না করা, অন্যায়কে অন্যায় মনে না করা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়৷ হেদায়াতের পথে বড় অন্তরায়৷

আর আমরা তাদের এসব শিরকি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করি৷ কারণ শিরককে আমরা মহা অন্যায় মনে করি৷ কেননা আল্লাহ তাআলা শিরককে “মহা অন্যায়” বলেছেন৷

আমাদের যে সমস্ত মুসলিম ভাই তাদের পূজায় যান এবং আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “পূজায় গেলে কী হবে? তাদের সাথে তো আর পূজায় অংশগ্রহণ করছি না৷ আমার ঈমান তো ঠিক আছে৷”

তাদেরকে একটি সরল কথা বলতে চাই৷ দেখুন, শিরক এমন একটি মারাত্মক গোনাহ, এমন এক বড় অন্যায়; আল্লাহ তাআলা বাকি সব গোনাহ তাওবা ছাড়া ক্ষমা করলেও এই গোনাহ ক্ষমা না করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন৷

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آَيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلَا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذًا مِثْلُهُمْ.

অর্থ: এবং ইতোপূর্বে তিনি কুরআনে তোমাদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহ্‌র আয়াতকে অস্বীকার করা হচ্ছে কিংবা বিদ্রুপ করা হচ্ছে, তাদের সাথে তোমরা বসো না, যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। অন্যথায় তোমরাও তাদের মত বলে গণ্য হবে।(৪: ১৪০)

এ আয়াতের শিক্ষণীয় বিষয় হলো:
অন্যায় বা পাপের বৈঠকে অংশ নেয়াটা পাপ কাজে অংশ নেয়ার শামিল। যদি অংশগ্রহণকারী চুপচাপ বসেও থাকে।

তাফসিরে মাআরেফুল কুরআনে বলা হয়েছে, কুফুরির প্রতি মৌন সম্মতিও কুফরি!

আলোচ্য আয়াতের শেষে ইরশাদ হয়েছে-
إنكم إذامثلهم
অর্থাৎ, এমন মজলিস যেখানে আল্লাহ তাআলার আয়াত ও আহকামকে অস্বীকার, বিদ্রূপ বা বিকৃত করা হয়, সেখানে হৃষ্টচিত্তে উপবেশন করলে তোমরাও তাদের সমতুল্য ও তাদের গোনাহের অংশীদার হবে৷ অর্থাৎ, আল্লাহ না করুন, তোমরা যদি তাদের কুফুরি কথাবার্তা মনে-প্রাণে পছন্দ কর, তাহলে তোমরাও কাফের হয়ে যাবে৷ কেননা কুফরিকে পছন্দ করাও কুফুরি৷ (মাআরেফুল কুরআন)

তাহলে বোঝা গেলো, আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক করা দুনিয়ার সমস্ত অন্যায়ের মধ্যে সবচে বড় অন্যায়৷ এখন দেখি অন্যায় দেখলে আমাদের ভূমিকা কী হতে পারে-
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো অন্যায় দেখলে তা সে তার হাত দ্বারা প্রতিহত করবে, যদি তা সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা প্রতিহত করবে, তাও যদি না করতে পারে তাহলে অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করবে। আর এ হচ্ছে (অন্তর দিয়ে ঘৃণা করা) দুর্বলতম ঈমান। (সহীহ মুসলীম: হাদীস: ৪৯)

যেখানে সাধারণ একটি অন্যায় অন্তর দিয়ে ঘৃণা করলে দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক, সেখানে দুনিয়ার সবচে বড় অন্যায় ঘৃণা না করে (কারণ ঘৃণিত জিনিস কেউ দেখতে যায় না) দেখতে গেলে আমাদের ঈমানের হালত কী হতে পারে, একটু ভেবে দেখেছেন? এরপরও বলবেন “আমার ঈমান ঠিক আছে”?

খলীফাতুল মুসলিমীন উমার রাযিয়াল” বলেন:
ﺭﻭﻯ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ﺑﺈﺳﻨﺎﺩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ: ﻻ ﺗﺪﺧﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺸﺮﻛﻴﻦ ﻓﻲ ﻛﻨﺎﺋﺴﻬﻢ ﻳﻮﻡ ﻋﻴﺪﻫﻢ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﺴﺨﻄﺔ ﺗﻨﺰﻝ ﻋﻠﻴﻬﻢ.
‘‘তোমরা মুশরিকদের উৎসবের সময় তাদের উপাসনালয়ে যেও না। কেননা, সেখানে তাদের উপর আল্লাহর গযব বর্ষিত হয়।’’
[সুনানুল কুবরা, বায়হাকী: ১৮২৮৮]

সুতরাং যেখানে আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হয়, আল্লাহর পক্ষ থেকে গযবের সাক্ষি হতে হয়, সেই ভয়ঙ্কর স্থানে গিয়ে নিজের ঈমান-আমল বিনষ্ট করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না৷

লেখক: মুফতি জিয়াউর রহমান
ইমাম ও খতিব: আম্বরখানা জামে মসজিদ, সিলেট৷

Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top