জুমু’আর বয়ান। বিষয়: মুসলমানদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে ইসলাম

0

তারিখ: ১৭ অক্টোবর, ২০১৯. ৭ সফর, ১৪৪১ হিজরি। জুমু’আবার৷

আলোচক: মুফতি দানিয়াল মাহমুদ।

الحمد لأهله والصلوة لأهلها، أما بعد: فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم.
قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِىٓ إِبْرٰهِيمَ وَالَّذِينَ مَعَهُۥٓ إِذْ قَالُوا لِقَوْمِهِمْ إِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدٰوَةُ وَالْبَغْضَآءُ أَبَدًا حَتّٰى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُۥٓ

মুসাল্লিয়ানে কেরাম!
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সমস্ত প্রশংসা যে রাব্বুল ইযযাত আমাদেরকে পবিত্র জুমার নামায আদায়ের লক্ষে সবার আগে প্রিয় জায়গা মাসজিদে এসে হাযির হওয়ার তাওফিক দান করেছেন।

পিয়ারে হাযিরীন! আপনাদের সামনে কুরআন কারীমের সূরা মুমতাহিনার ৪ নং আয়াত তেলাওয়াত করেছি। ইনশাআল্লাহ এর আলোকে কিছু কথা বলার চেষ্টা করব।

তিলাওয়াতকৃত আয়াতের তরজমা:
“ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় সম্প্রদায়কে বলছিল, ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি; এবং উদ্রেক হল আমাদের- তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আন।”

সম্মানিত মুসল্লিয়ান! ইসলামের অন্যতম একটা আকীদা হচ্ছে “আল-ওয়ালা এবং আল-বারা”। ওয়ালা অর্থ হচ্ছে বন্ধুত্ব, ভালবাসা, সহযোগিতা সু-সম্পর্ক ইত্যাদি। বারা অর্থ হচ্ছে শত্রুতা, বৈরীতা, সম্পর্কচ্ছেদ ইত্যাদি। ওয়ালা এর উদ্দেশ্য হলো একজন মুমিন ব্যক্তির কার সাথে আন্তরিক ভালবাসা ও বন্ধুত্ব পোষণ করা উচিত, তার নির্দেশনা দেয়া। আর বারা এর উদ্দেশ্য হলো অসন্তুষ্টি ও ঘৃণা প্রকাশ করা কিংবা শত্রুভাবাপন্ন হওয়া বা কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা।

প্রিয় ভায়েরা, আকীদা আল ওয়ালার দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তা’আলাকে তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং এরপরে সকল মুমিনকে মহব্বত করা, ভালাবাসা, আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ওয়াজিব।

আমরা আজকে আকীদা আল ওয়ালা ও বারা এর প্রথম অংশ ওয়ালা এর তৃতীয় স্তর তথা একজন মুমিনের আরেকজন মুমিনের সাথে সম্পর্ক কিরূপ হওয়া দরকার? মুমিন মুমিনের জন্য কী তূল্য? মুমিনের প্রতি জুলুম, মুমিনের বিপদে তার বিপক্ষে থাকা, নিরবতা অবলম্বন করা, জালিমের হাতে তাকে তুলে দেয়া বা সাহায্য করা ইত্যাদি বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।
আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন,
انما المؤمنون إخوة
নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই। (সুরা হুজুরাত: ১০)

আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন:
وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ
মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু। (সুরা তাওবা: ৭১)

পিয়ারে হাযিরীন, আল্লাহ তা’আলা আরো এরশাদ করেন:
إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُۥ وَالَّذِينَ ءَامَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلٰوةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكٰوةَ وَهُمْ رٰكِعُونَ

তোমাদের বন্ধু কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে বিনীত হয়ে। (সুরা মায়িদা: ৫৫)

আল্লাহ তা’আলা বলেন:
وَالَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوٰنِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمٰنِ وَلَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন; এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোন বিদ্বেষ রাখবেন না; হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি দয়াবান, পরম দয়ালু। (সুরা হাশর: ১০)

মুসল্লিয়ানে কেরাম! উল্লেখিত আয়াতসমূহ থেকে আমরা যা বুঝি তা হলো যে, পৃথিবীর সকল মুমিন, মুসলিম, দীন ইসলাম ও আকিদাতুত তাওহিদের ভিত্তিতে পরস্পর একে অপরের ভাই ও বন্ধু। চাই সে বংশ–গোত্র, বর্ণ, ভাষা ও দেশের দিক থেকে ভিন্নই হোক না কেন। প্রত্যেক মুমিন ভাই অপর মুমিন ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা, আন্তরিক হওয়া এবং হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, না রাখা ঈমানী দায়িত্ব। যেটি আকীদায়ে আল ওয়ালার অন্যতম অংশ। পরবর্তী মুসলিমরা তাঁর পূর্ববর্তী সত্যনিষ্ঠ মুসলিমদের পদাঙ্কানুসরণ করা এবং তাদের জন্য দোয়া ও ইস্তেগফার করা।

আকিদা আল ওয়ালার ভিত্তিতে প্রত্যেক মুসলমানের উপর সামর্থ্যানুযায়ী যথাস্থানে অপর মুসলমান ভাইয়ের সাথে সহযোগিতা ও কল্যাণকামিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া, বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ানো, তাঁর উপর জুলুমের প্রতিবাদ করা ওয়াজিব। কোন মুসলিমকে জালিমের হাতে তুলে দেয়া নাজায়েয ও হারাম।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
لا تباغَضوا، ولا تحاسَدوا، ولا تدابَروا، وكونوا عبادَ اللهِ ! إخوانًا، ولا يحلُّ لمسلِمٍ أن يهجُرَ أخاه فوقَ ثلاثِ ليالٍ
أخرجه البخاري (٦٠٧٦) ، ومسلم (٢٥٥٩)
“পরস্পর শত্রুতা রেখো না। হিংসা করো না। পরস্পর বিমুখ হয়ো না। আল্লাহর বান্দারা পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকো। কোনো মুসল্মানের জন্য তিন দিনের অধিক অপর মুসলিম ভায়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা বৈধ নয়।” (বোখারী, মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন:
الْمُسْلِمُ أخُو المُسْلِمِ، لا يَظْلِمُهُ ولا يُسْلِمُهُ، مَن كانَ في حاجَةِ أخِيهِ كانَ اللَّهُ في حاجَتِهِ، ومَن فَرَّجَ عن مُسْلِمٍ كُرْبَةً، فَرَّجَ اللَّهُ عنْه بها كُرْبَةً مِن كُرَبِ يَومِ القِيامَةِ، ومَن سَتَرَ مُسْلِمًا سَتَرَهُ اللَّهُ يَومَ القِيامَةِ.
أخرجه البخاري (٢٤٤٢)، ومسلم (٢٥٨٠)
“মুসলমান মুসলমানের ভাই। তারা একে অপরকে জুলুম করে না এবং জালিমের হাতে সোপর্দও করে দেয় না। যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভায়ের প্রয়োজন পূরণে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তার প্রয়োজন পূরণে থাকবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুঃখ—কষ্ট দূর করে দেবে আল্লাহ তা’আলা কেয়ামতের দিন তার দুঃখ কষ্ট দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে আল্লাহ তা’আলা তার কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।” (বোখারী, মুসলিম)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো এরশাদ করেন:
مَثَلُ المُؤْمِنِينَ في تَوادِّهِمْ، وتَراحُمِهِمْ، وتَعاطُفِهِمْ مَثَلُ الجَسَدِ إذا اشْتَكى منه عُضْوٌ تَداعى له سائِرُ الجَسَدِ بالسَّهَرِ والْحُمّى
أخرجه البخاري (٦٠١١)، ومسلم (٢٥٨٦)
“মুসলিমরা পরস্পর ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও হৃদ্যতা এবং দয়া-মায়ার দিক থেকে এক দেহের মত। দেহের কোন একটি অঙ্গ যখন অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন গোটা দেহই জ্বর ও অনিদ্রার শিকার হয়ে যায়।”

অন্য এক হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
المؤمنُ للمؤمنِ كالبُنْيانِ يَشُدُّ بعضُه بعضًا

“এক মুমিন অপর মুমিনের ব্যাপারে ইমারতের মত। যার এক অংশ অপর অংশকে জড়িয়ে রাখে (শক্তিশালী করে)”। (বুখারি ও মুসলিম)

পিয়ারে হাযিরিন! মুসলমানদের পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, হৃদ্যতা, ভালোবাসার ক্ষেত্রে কুরআনের উল্লেখিত আয়াত সমূহ ও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এ সকল হাদীসের দিক একটু নজর বুলাই, আর আমাদের মুসলিম সমাজের দিকে একটু নজর দেই। রাত আর দিনের তফাৎ রয়েছে মনে হবে। আমাদের অবস্থাতো এমন যে সামান্য দুনিয়ার তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও পরস্পর হিংসা, বিদ্বেষ, মনোমালিন্য তৈরি হয়ে যায়। আর আল্লাহর দুশমন, যাদের সাথে চুড়ান্ত পর্যায়ের শত্রুতা রাখার কথা সে সমস্ত কাফির কুফফারদের সাথে আমাদের আন্তরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসার সার্বক্ষণিক দহরমমহরম রয়েছে। অথচ “আল ওয়ালা” তথা ভালোবাসা ও হৃদ্যতার “আল–বারা” তথা বিদ্বেষ, সম্পর্কহীনতা, ঘৃণার ভিত্তি হচ্ছে তাওহীদ, ঈমান এবং কুফর ও শিরক।

মুসল্লিয়ানে কেরাম! আজ আমরা আমাদের শত্রু চিনি না। শত্রুকে মিত্র ভাবি, আর মিত্রকে শত্রু ভাবি। শুনে রাখুন! যে জাতি শত্রু–মিত্র নির্ণয় করতে পারে না তারা কখনো বিজয়ের স্বাদ পায় না। আল্লাহ তা’আলা আমাদের আসল শত্রু কে? আর মিত্র কে? তা নির্ণয় করে দিয়েছেন। আমাদের আসল শত্রু হল কাফির-মুশরিকরা।

মুসলমান সে দুনিয়ার যে কোন প্রান্তেরই হোক না কেন সে তো আমার বন্ধু, মিত্র, ভালোবাসা। তার দুঃখে, বিপদে, প্রয়োজনে যাথাসাধ্য পাশে থাকব। তাঁর জন্য দোয়া করব।

আজ বিশ্বের আনাচে-কানাচে মুসলিম ভাইরা কাফির ও তাদের মিত্রদের দ্বারা নির্যাতিত। আমরা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছি। বরং কেউ কেউ তো এসকল নির্যাতিত মুসলিমদেরকেই দোষি সাব্যস্থ করছে। এবং কুফফারদের সমর্থন দিচ্ছে। আজ যদি আমি মুসলিম ভাইয়ের বিপদে তার পাশে দাঁড়াই তাহলে কাল আমার বিপদেও আমি কাউকে পাবো না।

প্রিয় ভায়েরা! মুসলিম বিশ্বের সত্যনিষ্ট আলিম, উম্মাহ দরদী, দায়ী ইলাল্লাহ শায়খ আনওয়ার আল আওলাকি রাহি এর লেকচারে প্রদত্ত একটি গল্পের দ্বারা আজকের বয়ান শেষ করছি। যে গল্পটিতে রয়েছে আমাদের জন্য শিখার অনেক কিছু। আল্লাহ তা’আলা আমাদের তাওফীক দান করুন!

গল্পটি চারটি গরুকে নিয়ে। তাদের মধ্যে একটি ছিল সাদা আর বাকি তিনটি ছিল কালো বর্ণের। তারা হিংস্র নেকড়ে পরিবেষ্টিত খুব বিপদজনক একটি জায়গায় থাকতো। কিন্তু তারা সবসময় একসাথে থাকতো, একে অপরের প্রতি খেয়াল রাখতো এবং চোখ-কান খোলা রাখতো। ফলে শ্বাপদসংকুল এলাকায়ও তারা টিকে থাকতে পেরেছিল।

কিন্তু একদিন কালো গরু তিনটি গোপনে এক জায়গায় একত্রিত হলো। তারা বললো, সাদা গরুটা আমাদের জন্য বড্ড ঝামেলা সৃষ্টি করছে। আমরা কালো হওয়ায় রাতে আমাদের কেউ দেখতে পায় না, আমরা সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারি। কিন্তু ঐ সাদা গরুকে অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ে। ফলে আমরা ধরা পড়ে যেতে পারি। তাই, এককাজ করা যাক। আমরা তিনজন একসাথে থাকি, আর ঐ ঝামেলা টাকে আলাদা করে দিই।

কথা মতো সেই দিন থেকে তারা তিনজন, বেচারা সাদা গরুটিকে আলাদা করে দিলো। এদিকে নেকড়ে ছিল খুব চালাক। সে গরুগুলোর ভিতর বিভেদ বুঝতে পেরে সাদা গরুটিকে আক্রমণ করলো। কালো গরু তিনটি কোন বাধাই দিলো না। তাদের ভাইকে যখন টুকরো টুকরো করা হচ্ছিলো, তারা শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো।

কিন্তু নেকড়ে পরদিন রাতে তাদের তিনজনকে আক্রমণ করে বসলো। কারণ? নেকড়ে বুঝতে পেরেছিল, যেহেতু একটি গরু কম ছিল, তাই তারা এখন আগের তুলনায় দূর্বল। তাদের শক্তি অনেক কমে গিয়েছিল। ফলস্বরূপ নেকড়ে একটি কালো গরুকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল।

পরদিন রাতে নেকড়ের কাজ আরো সহজ হয়ে গিয়েছিল, কারণ এখন গরুর সংখ্যা আরো একটি কমে দুইটিতে এসে দাঁড়িয়েছিল। তারা অনেক চেষ্টা করলো, কিন্তু নেকড়ে আরো একটি গরুকে মেরে ফেলতে সক্ষম হলো। তার পরের দিন মাত্র একটি গরুই বেঁচেছিল। তাই নেকড়ে যখন তাকে আক্রমণ করতে আসলো, গরুটি বাধা দেয়ার পরিবর্তে প্রাণপণে ছুটতে শুরু করলো। নেকড়ে খুব ধীরে সুস্থে আগাচ্ছিল, কারণ সে জানে গরুটি একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তাকে বাঁচানোর মত কেউ আর অবশিষ্ট নেই। সুতরাং তাড়াহুড়া না করে নেকড়ে যথাসময়ে গরুটির ঘাড়ে লাফিয়ে পড়লো।

ঠিক তখনই, গরুটি খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ একটি কথা বললো, যে কথা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। গরুটি বলেছিল,
‘আমি তো সেদিনই মারা গিয়েছি, যেদিন সাদা গরুটি মারা গিয়েছিল। আমি নিজের মৃত্যুকে সেদিনই ডেকে এনেছিলাম। আমি এখন মারা যাচ্ছি না। আমি আজ মারা যাচ্ছি না। আমি সেদিনই মারা গিয়েছি, যেদিন আমি সাদা গরুটিকে নেকড়ের হাতে একাকি ছেড়ে দিয়েছিলাম।

লেখক: মুফতি দানিয়াল মাহমুদ
ইমাম ও খতিব: সুবিদবাজার বায়তুল মাকছুদ জামে মসজিদ, সিলেট৷

Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top