খুৎবার মিম্বর থেকে.. বিষয় : রামাযানে গড়ে উঠা আমলগুলো কন্টিনিউ রাখুন। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, إِنَّ أَحَبَّ الْأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ مَا دَامَ، وَإِنْ قَلَّ ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়’ (সহীহ বুখারী)

0

কয়েকটি আমলের অভ্যাস আলহামদুলিল্লাহ আমাদের অনেকেরই গড়ে উঠেছিলো। যেমন,

১. গুনাহ বর্জন করে তাকওয়ার চর্চা অব্যাহত রাখুন। মহান আল্লাহ বলেন,
وَمَن یَتَّقِ ٱللَّهَ یَجۡعَل لَّهُۥ مَخۡرَجࣰا وَیَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُۚ
যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তাকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেন। এবং এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন, যা তার কল্পনায়ও ছিলোনা’ (সূরা তালাক, ৩)

২.পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত। বিশেষত ফজরের সালাত কখনোই মিস করবেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ
যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করবে, সে সারাদিন আল্লাহর যিম্মায় অবস্থান করবে’
(সহীহ মুসলিম)

৩. অন্যান্য নফল আমলের চর্চা অব্যাহত রাখুন।
কারণ কিয়ামতের দিন বান্দার ফরজের ঘাটতি নফল দ্বারা পূরণ করা হবে।

বিশেষত দৈনন্দিন ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَجْدَةً ؛ تَطَوُّعًا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ “.

যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।
(সহীহ মুসলিম)

৪. তাহাজ্জুদের সালাতের চর্চাও অব্যাহত রাখুন।
এটি মোবারক সময়। দুয়া কবুলের সময়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ، يَقُولُ : مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ ؟ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ
যখন রাতের শেষ তৃতীয়াংশ হয়, তখন আমাদের রব প্রথম আকাশে নেমে আসেন, এসে বলেন, কে আমার কাছে দুয়া করবে আমি তার দুয়া কবুল করবো। কে আমার কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইবে, আমি মাফ করে দেবো। কে আছো আমার কাছে আর কিছু চাইবে, আমি সব দেবো’
(সহীহ বুখারী)

৫.বছরের অন্যান্য নফল সিয়াম আদায়ের চেষ্টা করুন। বিশেষত এখন চলছে শাওয়াল মাস। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ، ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ
যে ব্যক্তি রামাদানের সিয়াম পূর্ণ করলো, অতঃপর শাওয়াল মাসে ৬ টি রোযা রাখলো, সে যেন সারা বছর রোযা রাখলো’ (সহীহ মুসলিম)
অর্থাত তাকে সারা বছর রোযা রাখার সওয়াব দেয়া হবে।

৬.দান সাদাকা অব্যাহত রাখুন। প্রতিদিন সামান্য হলেও দান করুন। মহান আল্লাহ বলেন,
وَأَنفِقُوا۟ مِن مَّا رَزَقۡنَـٰكُم مِّن قَبۡلِ أَن یَأۡتِیَ أَحَدَكُمُ ٱلۡمَوۡتُ فَیَقُولَ رَبِّ لَوۡلَاۤ أَخَّرۡتَنِیۤ إِلَىٰۤ أَجَلࣲ قَرِیبࣲ فَأَصَّدَّقَ وَأَكُن مِّنَ ٱلصَّـٰلِحِینَ
‘হে ঈমানদার গন তোমরা আমার দেয়া রিযিক থেকে দান করো, মৃত্যু আসার আগে, যেদিন লোকেরা বলবে আয় আল্লাহ আমাকে যদিআরেকটু সুযোগ দেন, তাহলে আমি সাদাকাহ করবো ও ভালো মানুষের অন্তর্ভুক্ত হবো’
(সূরা মুনাফিকুন, ৬৩)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَا مِنْ يَوْمٍ يُصْبِحُ الْعِبَادُ فِيهِ إِلَّا مَلَكَانِ يَنْزِلَانِ، فَيَقُولُ أَحَدُهُمَا : اللَّهُمَّ أَعْطِ مُنْفِقًا خَلَفًا، وَيَقُولُ الْآخَرُ : اللَّهُمَّ أَعْطِ مُمْسِكًا تَلَفًا
‘প্রতিদিন আকাশ থেকে দু’জন ফেরেশতা নেমে আসেন, একজন বলেন আয় আল্লাহ আজকের দিনের দানকারির সম্পদ বৃদ্ধি করে দাও।

আর আরেকজন বলেন, যারা দান না করে জমিয়ে রাখলো তাদের সম্পদ ধ্বংস করো’ (বুখারী, ১৩৫১)

অতএব সম্পদে বরকত পেতে চাইলে প্রতিদিন সামান্য হলেও দানের অভ্যাস গড়ে তোলতে হবে।

৭.বেশি বেশি তাওবা ও ইসতিগফার করুন।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাই কমবেশি অবগত। করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা পৃথীবি আজ আতংকিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য আমাদের বেশি বেশি তাওবা ও ইসতিগফার এর আশ্রয় নিতে হবে।
মহান আল্লাহ বলেন,
وَمَا كَانَ ٱللَّهُ مُعَذِّبَهُمۡ وَهُمۡ یَسۡتَغۡفِرُونَ
আল্লাহ তায়ালা তাদের আযাব দেন না, যারা ইসতিগফার করে।( সূরা আনফাল, ৩৩)
তাছাড়া ইসতিগফার করলে, বিপদাপদ, দুঃখ, দুশ্চিন্তা, অসুখ সহ সকল সমস্যা আল্লাহ তায়ালা দূর করে দেন।

আবদুল্লাহ আল মনসুর।
স্থান : হায়দার পুর বাজার জামে মসজিদ।
ছাতক, সুনামগঞ্জ।
তারিখ ২৯ মে ২০২০

Share.

লেখক পরিচিতি

Leave A Reply

Top