Browsing: প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন: আসসালামু আলাইকুম। আমার এক পরিচিত মেয়ের প্রশ্ন এটি। সে তার বিয়ে নিয়ে সন্দেহে আছে। বিয়ের সময়, সে তার হবু স্বামী এবং শশুরবাড়ির কিছু মানুষের আচরনে বিয়েতে রাজি খুশি ছিলো না। কিন্তু, তার অভিভাবক তাকে এই বিয়েতে কোনরকম জোর করেনি। তবে, শেষ মুহূর্তে, সবরকম আয়োজনের পর সামাজিক কারনে সে এই বিয়ে থেকে পিছিয়েও আসতে পারেনি। কবুল পড়ানোর সময়, সে মনে মনে আল্লাহকে বলে, “আল্লাহ তুমি সাক্ষী, আমি এই বিয়েতে রাজি না।” কিন্তু, সে এরপর মুখে তিনবার কবুল বলে এবং সাইনও করে। তবে, সে কবুল বলার মুহূর্তেও রাজি খুশি ছিলো না। বিয়ের পরও সে তার স্বামীর প্রতি সবসময় সন্তুষ্ট ছিলো না।…

আসসালামু আ’লাইকুম প্রশ্ন: খুব প্রচালিত একটা আমল হল নামাযের পরে সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং আল্লাহু আকবার পড়া। এক্ষেত্রে আমি অনেক জায়গায় দুই রকম নিয়ম দেখি। কিন্তু সঠিক কোনটা সেটা সে ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি। আশা করি উত্তর দিয়ে সাহায্য করবেন…. ১. ৩৩বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার ২. ৩৩বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার ও একবার লা ইলাহা ইলাল্লাহু ওয়াহদাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদির। উত্তর: বিশুদ্ধ বর্ণনায় ফরয নামাযের পর এই তাসবীহগুলো পাঠের ৪ ধরনের ৪ টি বিবরণ এসেছে- ১- সুবহানাল্লাহ ১০ বার, আলহামদুলিল্লাহ ১০ বার, আল্লাহু আকবার ১০ বার৷…

প্রসঙ্গ: চামড়া নষ্ট করে দেওয়া পশুর চামড়া হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত একটি নানাবিধ ব্যবহার্য শিল্প৷ এর ব্যবহার সব যুগেই ছিলো৷ মায়মূনা রা,এর একটি ছাগল মারা গিয়েছিল৷ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই মৃত ছাগলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন৷ তখন তিনি বলছিলেন: إذا دُبِغ الإهابُ فقد طهُر চামড়া যখন প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন তা পাক হয়ে যায়৷ (সহীহ মুসলিম) একটি মৃত ছাগলের চামড়াও নষ্ট হোক, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা চান নি৷ আমরা হাজার হাজার চামড়া নদীতে কিংবা নর্দমায় ফেলে নষ্ট করে দিলাম৷ প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পর্কে অনভিজ্ঞতার কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে এবং প্রতিবাদস্বরূপ করলেও এমনটা উচিত হয় নি৷ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চামড়ার খুব কদর…

প্রশ্ন: কুরবানির পশু কে জবাই করা উত্তম? উত্তর: রাসুল ﷺ নিজ হাতে কুরবানির পশু জবাই করেছেন৷ হাদিসে এসেছে, রাসূল ﷺ ঈদের নামায আদায় করতেন৷ নামায আদায়ের পরপরই তাঁর কাছে কুরবানির পশু নিয়ে আসা হতো৷ তিনি নিজ হাতে পশু জবাই করতেন আর বলতেন- بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا عَنِّي وَعَمَّنْ لَمْ يُضَحِّ مِنْ أُمَّتِي. (رواه أبو داود: 2810) বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, এটা আমার পক্ষ থেকে এবং আমার যে সকল উম্মত কুরবানি করতে অক্ষম তাদের পক্ষ থেকে৷ (আবু দাউদ: ২৮১০) অন্যকে দিয়ে জবাই করাতে পারতেন৷ সাহাবায়ে কেরাম তো সারাক্ষণই প্রস্তুত থাকতেন রাসুলের পাশে৷ কিন্তু তিনি নিজে জবাই করেছেন৷ অক্ষম হলে ভিন্ন কথা৷…

মূল বিষয়টি আলোচনার আগে যে জিনিসটি আমাদের বুঝতে হবে সেটি হচ্ছে কুরবানির আবশ্যকতা কিভাবে এসেছে? আমরা যদি রাসুলুল্লাহ ﷺ এর মুখ নিঃসৃত হাদিসটি দেখি যেখানে বিশ্বনবী সাঃ কুরবানির আবশ্যকতা সম্পর্কে বলেন- مَنْ وَجَدَ سَعَةً فَلَمْ يُضَحِّ فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا অর্থাৎ স্বচ্ছলতা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানি করে নি, সে যেনো আমাদের ঈদগাহে না আসে। (মুসনাদে আহমদ, মুস্তাদরাকে হাকিম) সমস্ত ফুকাহায়ে কিরাম এ ব্যাপারে একমত যে এখানে ‘স্বচ্ছলতা’ বলতে কুরবানির দিনগুলোতে স্বচ্ছলতা অর্জন উদ্দেশ্য। অতএব, এই দিনগুলোতে যিনি আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করবেন তার উপরই কুরবানি ওয়াজিব হবে। এবার আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ে আসি। কুরবানি সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে ফুকাহায়ে কিরামের বক্তব্য থেকে আমরা…

কুরবানি অতি প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতিবছর যিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ “কুরবানির ঈদ বা ঈদুল আযহা” পালন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে কুরবানির ইতিহাস ততোটাই প্রাচীন যতটা প্রাচীন দ্বীন-ধর্ম অথবা মানবজাতির ইতিহাস। মানবজাতির জন্যে আল্লাহ তায়ালা’র পক্ষ থেকে যতো শরীয়ত নাযিল হয়েছে, প্রত্যেক শরীয়তের মধ্যে কুরবানি করার বিধান ছিল। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতে এটা ছিল একটা অপরিহার্য অংশ। আল্লাহ তা’আলা বলেন: وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكاً لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ. অর্থ: আর আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির এক রীতি-পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি, যেন তারা ঐসব পশুর উপর আল্লাহর নাম নিতে পারে। যে সব তিনি তাদেরকে দান করেছেন।…

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা যেভাবে তাঁর অসংখ্য–অগণিত সৃষ্টিজীবের মধ্যে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যেভাবে দুনিয়ার কিছু জায়গার মর্যাদা অন্য জায়গার উপর প্রদান করছেন অনুরূপ কিছু যামানা–সময়, দিন, মাসকে অন্য কিছু দিন–মাসের উপর ফযিলত প্রদান করেছেন। তেমনি কিছু মুবারাক, মহিমান্বিত দিনের নাম হচ্ছে “আইয়ামুত তাশরিক”। আশরায়ে যিলহজ্বের পরবর্তী তিন দিন তথা যিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের পরবর্তী তিন দিন অর্থাৎ এগার, বার ও তের তারিখকে পরিভাষায় ‘আইয়ামে তাশরীক’ বলে। অন্যতম অভিধান গ্রন্থ “লিসানুল আরবে” রয়েছে, قال في لسان العرب (١٠/١٧٦): تشريق اللحم. تقطيعه وتقديده وبسطه، ومنه سميت أيام التشريق. وأيام التشريق ثلاثة أيام بعد يوم النحر؛ لأن لحم الأضاحي يشرق فيها للشمس তাশরিক…

সামর্থ্যবান কুরবানিদাতার জন্য একাধিক কুরবানি করা ভাল। একধিক কুরবানির সামর্থ্য না থাকলে অন্তত একটি উট বা গরু কিংবা একটি ছাগল কুরবানি করবে। যদি পুরো একটি উট কিংবা গরু কুরবানির সামর্থ্য না থাকে তবে অন্তত একটি উট বা গরুর সাত ভাগের একভাগে শরিক হয়ে হলেও কুরবানি করবে। তবে ছাগলে অংশীদারিত্ব বৈধ নয়। এখন আলোচনার বিষয় হচ্ছে, একটি উট, গরু বা মহিষে সর্বোচ্চ কতজন শরিক হতে পারবে? এ ক্ষেত্রে দলিল দ্বারা প্রমাণিত যে, একটি উট, গরু বা মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত কুরবানি করতে পারবেন৷ সাত শরিকে কুরবানি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে অনেক হাদিস রয়েছে। যেমন- হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত হাদিস- أَنَّ الْنَّبِيَّ…

কারো নামে কি কুরবানী দেয়া যায়? সাধারণত বলা হয় ‘এবার আমি অমুকের নামে অথবা বাবার নামে কিংবা মায়ের নামে কুরবানী দিব।’ এমনটা বলা অনুচিত। কারণ কুরবানী একটি আর্থিক ইবাদাত। আর ইবাদাত হবে শুধু আল্লাহর নামে। কোনো মানুষের নামে নয়। বরং বলা যেতে পারে অমুকের পক্ষ থেকে আল্লাহর নামে কুরবানী। আর এটাই শুদ্ধ। যদিও কারো নামে কুরবানী দ্বারা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হচ্ছে এমনটাই উদ্দেশ্য করা হয়। তদুপরি এরুপ না বলাই ভাল। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তা ভক্ষণ করোনা, যেগুলো আল্লাহ ব্যতিত অন্যের নামে জবাই করা হয়’ ।(সূরা আনআম, ১২১)।তিনি আরো বলেন ‘হে নবী আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার…

মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোনসহ দুনিয়ার সমস্ত মানুষের চাইতে রাসুলুল্লাহ ﷺ হলেন উম্মতের সবচে আপনজন৷ ভালোবাসার ক্ষেত্রেও অন্য সবার চাইতে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি অন্তরে ভালোবাসা পোষণ করা ঈমানের দাবি৷ কারণ দুনিয়ার সকল স্বজন-আপনজনের চেয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ইহসান উম্মতের উপর সবচে বেশি৷ আমরা যখন কুরবানির বিষয়টাই পর্যালোচনা করি, তখন দেখতে পাই রাসূল ﷺ উম্মতের মধ্য থেকে যারা কুরবানি করতে অক্ষম, তাদেরকে সওয়াবে শরিক করার উদ্দেশ্যে তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি করতেন৷ হাদিসে এসেছে, রাসূল ﷺ ঈদের নামায আদায় করতেন৷ নামায আদায়ের পরপরই তাঁর কাছে কুরবানির পশু নিয়ে আসা হতো৷ তিনি নিজ হাতে পশু জবাই করতেন আর বলতেন- بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ هَذَا…

Top